ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

মেহেদির রং মোছার আগেই লাশ হলো তাসলিমা

মেহেদির রং মোছার আগেই লাশ হলো তাসলিমা

নিহত তাসলিমা আক্তার

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ২১:৩৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় বিয়ের অনুষ্ঠানের পাঁচ দিনের মাথায় তাসলিমা আক্তার নামে এক তরুণীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের হীরাপুর গ্রামে তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে তাসলিমার স্বামী সৌদি প্রবাসী আব্দুল হামিদ পলাতক।

সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের বাসুদেব গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে তাসলিমা। আব্দুল হামিদ হীরাপুর গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফ মিয়ার ছেলে।

স্বজন, এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, বিদেশে থাকা অবস্থায় ৭-৮ মাস আগে তাসলিমার সঙ্গে মোবাইল ফোনে আব্দুল হামিদের বিয়ে হয়। ১৫-২০ দিন আগে তিনি দেশে ফেরেন। গত শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাসলিমাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন হামিদ। এর মধ্যে একবার শ্বশুরবাড়ি থেকে বেড়িয়েও এসেছেন। আজ দুপুরে ঘরের ভেতর চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে এগিয়ে যান আব্দুল হামিদের বড় ভাই আব্দুল হানিফ। এ সময় দরজা খুলে তাঁর কানে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান হামিদ। হৈচৈ শুনে আশপাশের লোকজন এসে ঘরে ঢুকে বিছানার ওপর তাসলিমার গলাকাটা লাশ দেখতে পান।

স্থানীয় বাসিন্দা হেলাল মিয়া বলেন, ‘জোহরের নামাজ পড়ে হৈচৈ শুনে দৌড়ে আব্দুল হামিদের বাড়িতে যাই। তখন শুনি, সে তার স্ত্রীকে হত্যা করেছে।’

খবর পেয়ে হীরাপুর গ্রাম থেকে ছুটে আসেন তাসলিমার বড় ভাই আব্দুল কুদ্দুছ। বোনের লাশ দেখে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, ‘ধুমধাম করে বোনকে শ্বশুরবাড়ি পাঠালাম। এরপর স্বামীর সঙ্গে বাড়িতেও বেড়িয়ে গিয়েছিল। তার হাতের মেহেদির রং এখনও মুছেনি। আমার বোনের হত্যার বিচার চাই।’

খাউড়া থানার এসআই নিজাম উদ্দিন বলেন, দুপুর সোয়া ২টার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে দেখি, বিছানায় গলাকাটা অবস্থায় তাসলিমার রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে। 

আখাউড়া থানার ওসি নুরে আলম জানান, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি।

আরও পড়ুন

×