ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

বাংলাদেশ থেকে পাচার জ্বালানি ও ভোগ্যপণ্য

বাংলাদেশ থেকে পাচার জ্বালানি ও ভোগ্যপণ্য

.

 ইব্রাহিম খলিল মামুন, কক্সবাজার

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ২৩:১৪

কক্সবাজার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে পাচার করা হচ্ছে জ্বালানি ও ভোজ্যতেল। সেই সঙ্গে পাচার হচ্ছে চাল, পেঁয়াজ, আদা, রসুনসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য। কক্সবাজারের উখিয়া ও  টেকনাফ সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে এসব যাচ্ছে। গত দুই মাস অনুসন্ধান চালিয়ে এমন তথ্য পাওয়ার পর মাঠে নেমেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্তের বাসিন্দারা জানান, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সংঘাত শুরুর পর সেখানে জ্বালানি, ভোজ্যতেল এবং খাদ্যপণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুই মাস ধরে চোরাকারবারিরা উপকূলের অন্তত ৩০টি পথে এসব পণ্য পাচার করছে। গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে ১১ পাচারকারীকে তেল, ভোগ্যপণ্যসহ গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। সর্বশেষ গত সোমবার সন্ধ্যায় টেকনাফ সদর ইউনিয়নের হাতিয়াঘোনা এলাকা থেকে আব্দুল মান্নান (২৪) ও আলী হোসেন (৪৫) নামে দুই পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে রাখা ৪ হাজার ৪৭০ লিটার সয়াবিন তেল, বিভিন্ন ধরনের ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫৫০ পিস ওষুধ ও ৫০০ কেজি ময়দা উদ্ধার করা হয়। একটি পিকআপভ্যানও জব্দ করা হয়। 

র‍্যাব কর্মকর্তারা জানান, এর আগে জানুয়ারিতে ৯ পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৫ হাজার ৩৮৫ লিটার অকটেন, ৪০ কেজি পেঁয়াজ, ৩১ কেজি রসুন, ৩৬ কেজি আদা, এসব পরিবহনের জন্য আনা দুটি পিকআপ, কিছু নগদ টাকা ও বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।  
রাখাইন রাজ্যের সঙ্গে রাজধানী ইয়াঙ্গুনের সড়ক যোগাযোগ এখন বিচ্ছিন্ন বলে জানায় সীমান্তের একটি সূত্র। এ কারণে সেখানে ভোগ্যপণ্য ও জ্বালানির সংকট দেখা দিয়েছে। অর্থ দিয়েও পশ্চিম আরাকানের আকিয়াব, ভুচিদং, রাশিদং ও মংডুতে নিত্যপণ্য মিলছে না। 
টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রতি লিটার অকটেন ১৩৫ টাকা, ডিজেল ১১১ টাকা ও সয়াবিন ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর সীমান্ত পার করতে পারলেই তা কয়েক গুণ দামে বিক্রি করা যাচ্ছে। ফলে চোরাকারবারিরা মরিয়া হয়ে উঠেছে।’ সীমান্ত এলাকার এ জনপ্রতিনিধি জানান, অধিক লাভের আশায় অনেকেই তেল ও ভোগ্যপণ্য পাচারে জড়িয়ে পড়ছে।

সীমান্ত সংশ্লিষ্টরা বলছে, টেকনাফ ও উখিয়ার ১০টি পয়েন্ট ছাড়াও কক্সবাজারের নাজিরারটেক, নুনিয়ারছড়া, মাঝেরঘাট, খুরুশকুল, চৌফলদণ্ডী, কলাতলী, দরিয়ানগর, হিমছড়ি; উখিয়ার ইনানী, সোনারপাড়া; টেকনাফের শ্যামলাপুর, লম্বরী, মহেশখালীয়াপাড়া, সাবরাং, শাহপরীর দ্বীপ; মহেশখালীর সোনাদিয়া ও কুতুবদিয়া সমুদ্র উপকূলের অন্তত ২০টি পথে চোরাকারবারিরা সক্রিয়। 
র‍্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের আইন ও গণমাধ্যম শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আবু সালাম চৌধুরী বলেন, ‘জ্বালানি ও ভোগ্যপণ্য পাচারের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওসমান গণি বলেন, ‘কিছুদিন ধরে জ্বালানি ও ভোজ্যতেল মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে। বিষয়টি জানার পর পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।’
এদিকে, সীমান্ত দিয়ে তেল ও ভোগ্যপণ্য মিয়ানমারে পাচার বন্ধে গত ১৭ জানুয়ারি কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে একটি জরুরি সভা হয়। সভায় জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান যে কোনো মূল্যে পাচার প্রতিরোধের নির্দেশ দেন। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়ামিন হোসেন বলেন, ‘সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জ্বালানি ও ভোজ্যতেল বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানকে সাপ্তাহিক তালিকা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। কে ক্রয় করছেন, কত পরিমাণ ক্রয় করছেন, কতদিন পর ক্রয় করছেন, তালিকায় তা উল্লেখ থাকবে। তালিকাটি উপজেলা প্রশাসন পাঠাবে জেলা প্রশাসকের কাছে। কোনো অসংগতি থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ একই সঙ্গে সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয় সভায়।
 

আরও পড়ুন

×