ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

কুশিয়ারার বুকে ফের ড্রেজারের থাবা

কুশিয়ারার বুকে ফের ড্রেজারের থাবা

ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদী থেকে তোলা হচ্ছে বালু সমকাল

ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৪ | ২৩:২১ | আপডেট: ০১ মার্চ ২০২৪ | ২৩:২৩

আবারও ড্রেজারের ধাতব থাবায় ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে কুশিয়ারা নদীর বুক। স্থানীয়দের আপত্তি ও অভিযোগ উপেক্ষা করেই চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন।
জানা গেছে, সরকারি উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহারের কথা বলে সেখান থেকে বালু তোলা হচ্ছে। তবে কাদের ইশারায় এই বালু তোলার কাজ চলছে, তা জানা যায়নি। এর আগে কুশিয়ারা নদী রক্ষায় সেখান থেকে বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন আদালত। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় থাকা একটি প্রভাবশালী চক্র সরাসরি এ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারা কুশিয়ারা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তুললেও নীরব ভূমিকা পালন করছে প্রশাসন।
১৮ ফেব্রুয়ারি ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নের গঙ্গাপুর গ্রামের কাছে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজান আহমদ শাহের নেতৃত্বে কুশিয়ারায় ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু তোলার চেষ্টা করা হলে গ্রামবাসী বাধা দেন। এতে বালুখেকোরা ড্রেজার নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। পরদিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা প্রিয়াংকা সরকারি কাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাজের কথা বলে এলাকাবাসীকে রাজি করান।
পরবর্তী সময়ে বালু উত্তোলনকারীরা ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার মধ্যবর্তী স্থান থেকে বালু তোলার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী বালুসহ একটি নৌকা আটক করেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলেও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় বালু তোলা অব্যাহত রয়েছে।
২০২৩ সালে কুশিয়ারা থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার ব্যাপারে সংবাদ প্রকাশিত হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নের মানিককোনায় অভিযান চালিয়ে উত্তোলন করা বালু ও এ কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম জব্দ করেন। পরে ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলায় চলমান সরকারি প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সায়রাত শাখা থেকে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টদের বালু তোলার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে সেই আবেদনে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো প্রকল্পের কথা উল্লেখ ছিল না।
বালু তোলার ব্যাপারে জানতে চাইলে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজান আহমদ শাহ জানান, সরকারি কাজের জন্য ইউএনও নদী থেকে বালু উঠাচ্ছেন। তবে যথাযথ নিয়ম মেনে বালু তোলা হচ্ছে কিনা, এমন প্রশ্নের কোনো সুস্পষ্ট উত্তর মেলেনি তাঁর কাছে।
এদিকে ইউএনও ফারজানা প্রিয়াংকা জানান, সৈয়দ আফরোজ ফিরোজ একাডেমির সম্মুখভাগ ভরাটের জন্য বালু তোলা হচ্ছে। এ ব্যাপারে বাণিজ্যিক খাতে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে সরকারি কাজের জন্য বালু উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। এদিকে এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী আশিফ আহমদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সাড়া মেলেনি।

আরও পড়ুন

×