ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

আদর্শ শিক্ষক হতে চান অদম্য সজীব

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি

আদর্শ শিক্ষক হতে চান অদম্য সজীব

মায়ের সঙ্গে সজীব মণ্ডল সমকাল

মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৪ | ২৩:২৯

পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে স্বপ্ন পূরণে পঙ্গুত্বও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। সেটাই প্রমাণ করে চলেছেন মাগুরার মহম্মদপুরের সজীব মণ্ডল। একজন আদর্শ শিক্ষক হওয়ার স্বপ্নকে লালন করে ধীরে ধীরে স্বপ্ন পূরণের পথে তিনি। তবে তাঁর উচ্চশিক্ষা অর্জনে বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে দারিদ্র্য। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে সজীবের অসহায় মা-বাবার। ছেলের স্বপ্ন পূরণে প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতাপ্রত্যাশী তারা।
সজীব মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের খাদুনা গ্রামের হতদরিদ্র কাঠমিস্ত্রি সুনীল মণ্ডল ও গৃহিণী স্বপ্না রানী মণ্ডলের ছেলে। মা-বাবাসহ পাঁচ সদস্যের পরিবারে দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি মেজো।
দরিদ্রতা ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা এখন পর্যন্ত সজীবের শিক্ষা অর্জনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ২০২০ সালে মহম্মদপুর উপজেলার চৌবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ২০২২ সালে বিনোদপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি। এ বছর উপজেলার আমিনুর রহমান ডিগ্রি কলেজে তিন বছর মেয়াদি স্নাতক (পাস) কের্সে ভর্তি হয়েছেন। 
সুনীল মণ্ডল জানান, এখন তাঁর সামান্য আয় দিয়ে ছেলেমেয়ের পড়াশোনার খরচ কুলিয়ে উঠতে পারছেন না। বয়স হওয়ায় আগের মতো পরিশ্রমও করতে পারেন না। কোনোমতে সংসার সামলাচ্ছেন। ইচ্ছা থাকলেও ছেলেমেয়েদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণের সামর্থ্য নেই তাঁর।
তিনি বলেন, লেখাপড়ার প্রতি ছেলের আগ্রহ ও অধ্যবসায় তাঁকে সাহস জোগায়। কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে হেরে যাচ্ছেন তিনি। তার পর মেয়েটা বড় হয়ে গেছে, তাঁকেও বিয়ে দিতে হবে। নানা চিন্তায় মাঝে মধ্যে দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। সরকারি সহায়তা পেলে ছেলেটা তাঁর শিক্ষাজীবন শেষ করে হয়তো কিছু একটা করতে পারত।
সজীব বলেন, ছোটবেলায় মায়ের কোলে চড়ে তিনি স্কুলে গিয়েছেন। বড় হয়ে ভ্যানে করে। কলেজে উঠলে ভগ্নিপতির সহযোগিতায় তাঁর জন্য একটি ব্যাটারিচালিত হুইলচেয়ার কেনা হয়। সেটা দিয়ে কলেজে আসা-যাওয়া করছেন। তাঁর নামে একটি প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড আছে, তা দিয়ে এবং স্বজনদের সহযোগিতায় ডিগ্রিতে ভর্তি হয়েছেন। লেখাপড়া শেষ করে একজন আদর্শবান শিক্ষক হতে চান। স্বপ্ন পূরণে সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। 
এ বিষয়ে আমিনুর রহমান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শওকত বিপ্লব রেজা বিকো বলেন, সজীবের আগ্রহের কথা জেনে সীমিত খরচে তাঁকে ডিগ্রিতে ভর্তি করা হয়েছে। কলেজের পক্ষ থেকে তাঁকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
মহম্মদপুরের ইউএনও পলাশ মণ্ডল জানান, তিনি সজীবের বিষয়টি জেনে তাঁকে অফিসে ডেকেছেন। তাঁর লেখাপড়া যেন বন্ধ না হয়, সে জন্য সব ধরনের সহযোগিতার চেষ্টা করবেন তিনি।

আরও পড়ুন

×