ঢাকা বুধবার, ২২ মে ২০২৪

গুদামে এক ছটাক ধানও দেননি কৃষক

রানীনগর ও আত্রাই

গুদামে এক ছটাক ধানও দেননি কৃষক

ম্যাপ

রানীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৪ | ০৪:৪০ | আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২৪ | ০৪:৪০

নওগাঁর রানীনগর এবং আত্রাই উপজেলায় আমন মৌসুমে সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে চুক্তিবদ্ধ মিলাররা চাল সরবরাহ করলেও এক ছটাক ধানও দেননি কৃষকরা। বাজারমূল্য সরকারি দরের চেয়ে বেশি হওয়াসহ নানাবিধ সমস্যার কারণে সরকারি গুদামে ধান বিক্রির ব্যাপারে অনীহা দেখাচ্ছেন তারা। ফলে জেলায় ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।

রানীনগরে ৩০ টাকা কেজি দরে ৭৬০ টন ধান, ৪৪ টাকা কেজি দরে ১ হাজার ৩৮৩ টন সেদ্ধ চাল ও ৪৩ টাকা কেজি দরে ৩৬ টন আতপ চাল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত হয়। গত বছরের ২৩ নভেম্বর থেকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধান-চাল কেনার সময় নির্ধারণ করা হয়। একইভাবে আত্রাই উপজেলায়  ৩০ টাকা কেজি দরে ২৯৭ টন ধান এবং ৪৪ টাকা কেজি দরে ২৬৬ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

এ দুই উপজেলার খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা হেলাল উদ্দীন ও আবুল কালাম আজাদ জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তিবদ্ধ মিলাররা গুদামে চাল সরবরাহ করেছেন। কিন্তু কোনো কৃষক ধান দেননি। ফলে এক ছটাক ধানও সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

রানীনগরের আবাদপুকুর বাজারের ধান-চাল আড়তদার হেলাল উদ্দীন হেলু মণ্ডল, আত্রাইয়ের পতিসর বাজারের ধানের আড়তদার সাইফুল ইসলাম টুটুল ও নওদুলি বাজারের আড়তদার তুষার আহম্মেদ বলেন, চলমান বাজার অনুযায়ী জিরাশাইল ধান প্রতি মণ ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫৩০ টাকা, স্বর্ণা-৫ ১ হাজার ২০০, ব্রি-৯০ ১ হাজার ৪০০ ও চিনি আতপ ২ হাজার ৩০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। 

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি খাদ্যগুদামে ধান দিতে গেলে ধানের আর্দ্রতা এবং রকম বাছাই করা হয়। এ ছাড়া গুদামে বিক্রীত ধানের টাকা নিতে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা নিতে হয়। এতে অনেক ঝামেলা হয়। তা ছাড়া সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে বাজারে প্রতি মণ ধানে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি পাওয়া যাচ্ছে। তাই খাদ্যগুদামে ধান দেননি তারা।

রানীনগর উপজেলা ধান-চাল ক্রয় কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাবাসসুম বলেন, সরকারি খাদ্যগুদামে ধান দিতে কৃষকদের নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় বাজারে বেশি দাম পাওয়ায় তারা ধান দেননি। একই কথা জানান আত্রাই উপজেলা ধান-চাল ক্রয় কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্চিতা বিশ্বাস। 

আরও পড়ুন

×