ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

যৌন নিপীড়নের ঘটনায় উত্তাল বিশ্ববিদ্যালয়

কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়

যৌন নিপীড়নের ঘটনায় উত্তাল বিশ্ববিদ্যালয়

ছবি: সমকাল

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৪ | ০৫:৫২

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক সাজন সাহার বিরুদ্ধে এবার একাধিক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে বহিষ্কারের দাবিতে গতকাল বুধবার আন্দোলনে নামেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। অনির্দিষ্টকালের জন্য বিভাগের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন তারা। এ ঘটনায় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সহকারী অধ্যাপক সাজন সাহার বিরুদ্ধে গত রোববার যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তোলেন চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে মধ্যরাতে চা পানের দাওয়াতসহ একাধিক অনৈতিক প্রস্তাবের স্ক্রিনশট ফেসবুকে পোস্ট করেন শিক্ষক সাজন সাহা। শিক্ষকের এমন কাণ্ডে ফুঁসে ওঠেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গত সোমবার বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে অবস্থান ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেন। যৌন নিপীড়নের ঘটনার বিচার চেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। এর পর একে একে মুখ খোলেন যৌন হয়রানির শিকার অন্তত ৩০ জন।

শিক্ষক সাজন সাহার যৌন নিপীড়নের ঘটনাটি মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান রেজওয়ান আহমেদ শুভ্রকে জানিয়েছিলেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। কিন্তু মেলেনি কোনো প্রতিকার।

একাধিক শিক্ষার্থী যৌন নিপীড়নের শিকারের ঘটনায় ওই শিক্ষকসহ বিভাগীয় প্রধানের বহিষ্কারের দাবিতে বুধবার সকাল থেকে আন্দোলনে নামেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ ঘেরাও করে বিভাগীয় প্রধান রেজওয়ান আহমেদ শুভ্রকে দীর্ঘসময় অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সঞ্জয় কুমার মুখার্জিসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা তাঁকে উদ্ধার করেন।

দুপুরের দিকে বিচারের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিভাগের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা শিক্ষক সাজন সাহা ও বিভাগীয় প্রধান রেজওয়ান আহমেদ শুভ্রর নামফলক খুলে তাতে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আতাউর রহমানকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার উম্মে সালমা তানজিয়া ও শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজের অধ্যক্ষ ড. এ কে এম আবদুর রফিক। তারা দু’জনই কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য। 

অভিযোগের বিষয়ে কথা হয় মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান রেজওয়ান আহমেদ শুভ্রর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থীর শুধু মৌখিক অভিযোগেই তাঁর যেন কোনো ক্ষতি না হয়, সে জন্য তাঁর ইন্টার্নশিপই চেঞ্জ করে দিই। তাহলে ব্যবস্থা নিলাম না কীভাবে?’ তিনি বলেন, ‘অনেকের রাগ-ক্ষোভ রয়েছে আমার প্রতি। সেই রাগ-ক্ষোভে আমাকেও ঘটনার সঙ্গে জড়ানো হচ্ছে। আমিও চাই যৌন নিপীড়কের শাস্তি হোক।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সঞ্জয় কুমার মুখার্জি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×