ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

খতনার সময় অঙ্গ কেটে ফেলেন চিকিৎসক, প্রতিবাদ করায় মারধর

খতনার সময় অঙ্গ কেটে ফেলেন চিকিৎসক, প্রতিবাদ করায় মারধর

অভিযুক্ত চিকিৎসক জহিরুল ইসলাম চৌধুরী। ছবি: সমকাল

নবীগঞ্জ(হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৪ | ২০:১৮ | আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২৪ | ২১:৩৬

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় সরকারিভাবে সিলগালা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে খতনা করার সময় শিশুর লিঙ্গের কিছু অংশ কেটে ফেলেন চিকিৎসক। এ সময় দ্রুত রক্তক্ষরণ হতে দেখে প্রতিবাদ করলে শিশুর বাবা ও মাকে মারধর করে বের করে দেন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক ও চিকিৎসক। পরে শিশুটিকে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার আউশকান্দি বাজার এলাকায় কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। অনুমোদনবিহীন ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টার ১৫ দিন আগে সিলগালা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় তামিমের চাচা হারুন মিয়া নবীগঞ্জ থানায় খতনাকারী চিকিৎসক জহিরুল ইসলাম জয়, হাসপাতালের মালিক সুহুল আমিনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জের দেবপাড়া ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের আব্দুশ শহীদের ছেলে তামিম আহমেদ (১২) ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। বুধবার তাকে খতনা করার জন্য কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নেওয়া হয়। এ সময় মালিক সুহুল আমিন ও চিকিৎসক জহিরুল ইসলাম চৌধুরী সিলগালা করা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তালা খুলে তামিমকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। খতনা করার সময় শিশুটির লিঙ্গের কিছু অংশ কেটে ফেলেন চিকিৎসক। এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে ভেতরে ঢোকেন তার বাবা ও মা। তারা দেখেন শিশুটির দ্রুত রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এমন অবস্থায় তাকে চড়-থাপ্পড় দিচ্ছেন চিকিৎসক ও মালিক। এ সময় প্রতিবাদ জানালে তামিমের বাবা ও মাকে মারধর করে বের করে দেন মালিক সুহুল আমিন ও চিকিৎসক জহিরুল ইসলাম চৌধুরী। এ সময় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। 

চাচা হারুন মিয়া বলেন, আমার ভাতিজাকে ভুল অপারেশন করে তা লিঙ্গের কিছু অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। এ সময় সে কান্নাকাটি করলে চিকিৎসক ও মালিক তাকে মারপিট করেন। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেছি। ভুল চিকিৎসা ও প্রতিবাদ করায় মারধরের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছি।

জানা গেছে, স্বজনের মাধ্যমেই তামিমকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে নিয়ে আল-হরামাইন হাসপাতালের আইসিইউতে গোপনে চিকিৎসা দিচ্ছেন কেয়ার ডায়াগনস্টিকের মালিক। তিনি এ হাসপাতালের পরিচালকও। রোগীর স্বজনরা হাসপাতালের ৬ নম্বর কেবিনে আছেন। তবে আল-হরামাইন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তামিম নামে রোগী তাদের হাসপাতালে ভর্তি নেই বলে জানায়।

মোবাইলে তামিমের মা পারভীন বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে ডাক্তাররা তাদের জিম্মায় সিলেট আল-হরামাইন হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। তারা বলেছেন, আমার ছেলে ভালো হয়ে যাবে, চিন্তার কিছু নেই। চিকিৎসার সব খরচ তারা দেবে, আমরা যেন কাউকে কিছু না বলি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি হাসপাতালের ৬ নম্বর কেবিন থেকে লুকিয়ে কথা বলছি। তারা আমাদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেন না।’

নবীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন দেলোয়ার বলেন, ‘সিলগালা প্রতিষ্ঠানে কীভাবে কার্যক্রম চলেছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।’ 

নবীগঞ্জ উপজেলা টিএইচও ডা. আব্দুস ছামাদ বলেন, ‘অনুমোদন না থাকায় কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করা হয়েছিল। বুধবার কারা এটি খুলেছে, জানি না। খোঁজ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নবীগঞ্জ থানার ওসি মাসুক আলী জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে থানার এসআই গৌতম দাশকে কেয়ার ডায়াগনস্টিকে পাঠানো হয়। তবে কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।

অভিযোগের ব্যাপারে কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক সুহুল আমিন সাংবাদিকদের বলেন, খতনার সময় একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিলগালা প্রতিষ্ঠানে কী হচ্ছে, তা দেখবে সরকার। একটি মহল সাধারণ মানুষকে এনে হাসপাতাল ঘেরাও করে। তাদের কারণে অস্ত্রোপচারসহ কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটে।

 

আরও পড়ুন

×