ঢাকা বুধবার, ২২ মে ২০২৪

জোয়ারে সাঁতরে, ভাটায় কাদা মাড়িয়ে পন্টুনে

জোয়ারে সাঁতরে, ভাটায় কাদা মাড়িয়ে পন্টুনে

সিঁড়ি না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে তীরে উঠছেন এক যাত্রী। রোববার কয়রার মদিনাবাদ লঞ্চঘাটে সমকাল

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৪ | ২২:৫৩

সুফিয়া বেগমের (৪৫) বাড়ি খুলনার কয়রা সদরে। পাশের সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নীলডুমুর গ্রামে আত্মীয়বাড়িতে যেতে হয় লঞ্চে চেপে। এ জন্য কপোতাক্ষ নদের তীরে অবস্থিত কয়রার মদিনাবাদ লঞ্চঘাটে এসেছিলেন গতকাল সোমবার। আগের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এই নারী। কারণ এ ঘাটের পন্টুনে ওঠার সিঁড়ি ভেঙেছে বছরখানেক আগে। ফলে জোয়ারের সময় সাঁতরে উঠতে হয় পন্টুনে। আর ভাটার সময় কাদাপানি মাড়াতে হয় যাত্রীদের।
সুফিয়া বেগম বলেন, ‘এভাবে গাঙের পানি সাঁতরে লঞ্চে উঠতি অনেক সমস্যা হয়। কাপড়-চোপড় ভিজে একাকার হয়ে যায়। লঞ্চে উঠেই তা পাল্টায় ফেলতে হয়।’ তবে যারা এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের হন, তাদের ভিজে কাপড়েই পথ পাড়ি দিতে হয় বলেও জানান তিনি।
কয়েকজন লঞ্চযাত্রীর ভাষ্য, লঞ্চে ওঠার জন্য তারা গামছা নিয়ে আসেন। জোয়ারের সময় গায়ের পোশাক খুলে গামছা পরে সাঁতরে পন্টুনে বা তীরে ওঠেন। তবে নারী ও শিশুদের পড়তে হয় ভয়াবহ দুর্ভোগে। তীরে বা পন্টুনে উঠে তাদের পোশাক বদলাতে হয়। দীর্ঘদিনেও সিঁড়ি সংস্কার না হওয়ায় তীব্র হতাশা ব্যক্ত করেন তারা। 
গোবরা গ্রামের রবিউল ইসলাম (৩২) নামের এক যাত্রী বলেন, ‘রোগী নিয়ে লঞ্চে উঠতি গেলি খুব সাবধান হতি হয়। আবার বাচ্চা-কাচ্চা নিয়েও পড়তি হয় নানা সমস্যায়।’ 
লঞ্চঘাটে বিআইডব্লিউটিএর পন্টুনটির জোয়ারে ভেসে উঠলে এটির সঙ্গে মূল সড়কের দূরত্ব দাঁড়ায় প্রায় ১৫০ মিটার। প্রতিদিন খুলনা থেকে দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চ এই পথে চারবার আসা-যাওয়া করে। প্রতিবার মদিনাবাদ ঘাট থেকে ওঠানামা করেন অন্তত অর্ধশতাধিক যাত্রী। এ ছাড়া কয়রা বাজারের ব্যবসায়ীদের যেসব পণ্য খুলনা থেকে আনতে হয়, এ জন্যও ব্যবহৃত হয় এই ঘাট।
কয়রা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জুলফিকার আলী বলেন, লঞ্চ থেকে পন্টুনে পণ্য নামানোর পর তীরে আনতে নৌকা ভাড়া করতে হয়। এতে খরচ বাড়ে। অনেক সময় নৌকা পাওয়া না গেলে ঝুঁকি নিয়ে পণ্য খালাস করতে হয়। 
টোল আদায়কারী আব্দুস সালাম বলেন, সংযোগ সিঁড়ি মেরামতের জন্য বারবার তিনি কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন। তবে  কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
তবে এ বিষয়টি জানতেন না বলে দাবি করেন বিআইডব্লিউটিএ খুলনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. নাহিদুল হক। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়ে দ্রুত সমস্যাটি সমাধানের আশ্বাস দেন। 

আরও পড়ুন

×