ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

স্কুলছাত্রী অচেতন করে স্বর্ণালংকার লুট থামছে না

স্কুলছাত্রী অচেতন করে স্বর্ণালংকার লুট থামছে না

.

নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৪ | ২৩:০৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে আরও এক স্কুলছাত্রীকে অচেতন করে স্বর্ণালংকার লুটে নিয়েছে দুর্বৃত্ত চক্র। বৃহস্পতিবার গোকর্ণ ইউনিয়নের নূরপুর গ্রামে ঘটে এ ঘটনা। এরই মধ্যে পাশের সরাইল উপজেলার দুই শিশুকে অপহরণচেষ্টার সময় এক নারীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী। রোববার পানিশ্বর ইউনিয়নে ঘটে এ ঘটনা। 
এদিকে এসব ঘটনা নিয়ে নাসিরনগরে গতকাল সোমবার এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে বক্তব্য দেওয়া কয়েক শিক্ষককে মাঝপথেই থামিয়ে দেন শিক্ষা কর্মকর্তা। তিনি তাদের ধমকও দেন। এ নিয়ে শিক্ষক-অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
উপজেলা পরিষদ হল রুমের ওই সভায় ১২৬ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অংশ নেন। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যোগ দেন ইউএনও মোহাম্মদ ইমরানুল হক। 
সভায় উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা ইতোপূর্বে তাদের প্রতিষ্ঠানে ঘটে যাওয়া চুরির বিষয় তুলে ধরেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইকবাল মিয়া। যে শিক্ষকরা এসব বিষয়ে কথা বলছিলেন, তাদের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করতে বলেন। এক পর্যায়ে তিনি ভুক্তভোগী এক ছাত্রীর বাবা নূরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আকবর মিয়াকে মঞ্চে ডেকে ধমকাতে থাকেন শিক্ষা কর্মকর্তা। তিনি আকবর মিয়ার কাছে জানতে চান, কেন তাঁর মেয়ে নিখোঁজের বিষয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান সেখানে কিছুদিন আগে কোয়রপুর সরকারি বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নামসহ থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁর বক্তব্য শেষ হতে না হতেই ক্ষেপে যান শিক্ষা কর্মকর্তা ইকবাল মিয়া।
একাধিক প্রধান শিক্ষক বলেন, একদিকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা সচেতনতামূলক সভা করছেন। আরেক দিকে শিক্ষকদের সত্য বলতে বাধা দিচ্ছেন। বিদ্যালয়ে চুরি ও শিশুদের তুলে নেওয়ার ঘটনায় ভুক্তভোগী অভিভাবকরা ফেসবুকে লিখলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা হুমকি দিচ্ছেন। 
তবে কোনো শিক্ষককে ধমক দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইকবাল মিয়া। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনায় বক্তব্য দেওয়ায় উপস্থিত অতিথিরা মনঃক্ষুণ্ন হন। এতে শিক্ষকদের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করতে বলেছি।’ মেয়ে নিখোঁজের ঘটনায় এক শিক্ষক ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় চাপ দিয়েছেন কিনা– জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।
শিক্ষকদের সচেতন করতেই সভার আয়োজন করা হয় বলে জানান নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহাগ রানা। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে এলে তাদের নিরাপত্তায় জোর দিতে হবে। অপরিচিত লোকদের আশপাশে পরিচয় নিশ্চিত হতে হবে।
৫ মার্চ ‘খালা আতঙ্কে বিদ্যালয়গামী শিশু’ শিরোনামে সমকালে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে ২৫ দিনে নাসিরনগর থেকে ১২ শিশুকে তুলে নিয়ে স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার তথ্য বেরিয়ে আসে। যদিও এখন পর্যন্ত পুলিশ এসব ঘটনায় জড়িত দুর্বৃত্তচক্রের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
এদিকে বৃহস্পতিবার উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নের নূরপুর গ্রামের এম এ মান্নান কিন্ডারগার্টেনের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী সোনিয়া আক্তারকে অচেতন করে স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। তাকে বালুর ওপর পুরোনো চট দিয়ে চাপা দিয়ে চলে যায় তারা। পরে এলাকাবাসী বিষয়টি দেখতে পান। সংবাদ পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে।
প্রতিবেশী সম্পর্কের দাদি মোছাম্মত জাহারা বলেন, ‘আমার নাতিন যদি লইয়া যাইতোগা তাইলে কই পাইতাম? আইজকা স্বর্ণ নিছে। এর পর যদি মানুষ লইয়া যায়, তাইলে এর দায়িত্ব কেডা নিব?’ এই ঘটনার পর থেকে ওই পাড়ার শিশুরা বিদ্যালয়ে যেতে চাইছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 
সরাইলেও দুই শিশুকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা
রোববার দুপুরে পাশের সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের শোলাবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী মাহবুবা আক্তার ও সুরাইয়া আক্তারকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নাছির উদ্দিন বলেন, স্থানীয় জনতা কসবা উপজেলার রতনা আক্তার নামে এক নারীকে আটক করে। পরে ওই দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা সরাইল থানায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। 
সরাইল থানার ওসি মো. এমরান হোসেনের ভাষ্য, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের কোনো অভিভাবক মামলা করতে চাননি। কয়েক দিন আগে একই থানায় চেইন চুরির একটি মামলা করেন এক ব্যক্তি। এতে রতনা আক্তারকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন।

আরও পড়ুন

×