ঢাকা বুধবার, ২২ মে ২০২৪

বরিশাল বিভাগে আরও দুর্বল হয়ে পড়ল জাপা

দুই ভাগে বিভক্ত নেতাকর্মী

বরিশাল বিভাগে আরও  দুর্বল হয়ে পড়ল জাপা

লোগো

 সুমন চৌধুরী, বরিশাল

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৪ | ২৩:৩৪

বরিশাল বিভাগে অনেক বছর ধরেই জাতীয় পার্টি (জাপা) সাংগঠনিকভাবে দুর্বল। দলটির কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ভাঙন দেখা দেওয়ায় সেই অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। বিভাগের ছয় জেলাতেই জাপার কর্মী-সমর্থক এখন দুই ভাগে বিভক্ত। 
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বরিশাল বিভাগে জাপার বিভিন্ন পর্যায়ে যারা পদবঞ্চিত, সম্প্রতি তারা ভিড়েছেন রওশন এরশাদের দিকে। রওশনপন্থিদের পক্ষে এই বিভাগে সংগঠন গোছাচ্ছেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য বরিশালের মুলাদী উপজেলার শফিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম শাহজাদা মুন্সী। সমকালকে তিনি বলেন, ‘রওশন এরশাদের নেতৃত্বাধীন নতুন জাপা গঠনের প্রভাব আগামী তিন মাসের মধ্যে বরিশালে দৃশ্যমান হবে। বড় চমক আছে। কেন্দ্রের এক হেভিওয়েট নেতা খুব শিগগির জি এম কাদের গ্রুপ ছেড়ে রওশন গ্রুপে যোগ দেবেন।’ তাঁর তথ্যমতে, বরিশাল জেলা থেকে ৫০ জন, মহানগরের ২৪ জন, পটুয়াখালীর ৫২ জন, বরগুনার ৫০ জন, পিরোজপুরে ৫৫ জন, ঝালকাঠির ২২ জন এবং ভোলা থেকে জাপার ২৫ জন নেতাকর্মী গত শনিবার ঢাকায় রশওনপন্থিদের সম্মেলনে অংশ নেন।
বরিশালেও দীর্ঘদিন ধরে জাপার দুটি গ্রুপ। তাদের মধ্যে মুখ দেখাদেখিও কম। একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দেন মহানগরের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মহসিন উল ইসলাম হাবুল, অপরটির জেলা আহ্বায়ক এ কে এম মর্তুজা আবেদীন। মহানগর জাপার মর্তুজাপন্থি নেতা এ কে এম মোস্তফা ঢাকায় রওশনপন্থিদের সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন বলে জানা যায়। তবে এই কথা অস্বীকার করেছেন মোস্তফা। জেলা জাপার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য গাজী মো. শোয়াইব কবির ঢাকায় সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আরও অনেকে যোগ দিচ্ছেন। দু-এক সপ্তাহের মধ্যে বরিশাল জাপায় পুনর্জাগরণ ঘটবে।’ 
তবে কেন্দ্রের ভাইস চেয়ারম্যান ও মহানগর জাপার আহ্বায়ক অধ্যক্ষ হাবুল বলেন, ‘বরিশাল থেকে উল্লেখযোগ্য কেউ রওশন গ্রুপে যাননি। যারা গেছেন, তাতে স্থানীয় জাপা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।’
দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের উপদেষ্টা ও মহানগর জাপার সদস্য সচিব ইকবাল হোসেন তাপস বলেন, ‘বারবার ভাঙনে জাপার প্রতি মানুষ আস্থা হারাচ্ছে। রওশন এরশাদের নেতৃত্বে নতুন ধারা কতদিন টিকবে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।’ 
পিরোজপুর জেলা জাপার গত কমিটির সবাই রওশনপন্থি জাপায় ভিড়েছেন। তারা আহ্বায়ক কমিটিও গঠন করেন। যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রাজন জানান, ২০১৮ সালে সর্বশেষ গঠিত কমিটির সভাপতি মো. সেকান্দার আলী মুকুল, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সেলিমসহ সবাই রওশনপন্থিতে জাপায় যোগ দিয়েছেন। জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ১৯৯৮ সালে হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের জাপা ত্যাগের পর পিরোজপুরে জাপা দুর্বল হয়ে পড়েছে। 
ভোলায় রওশনপন্থি জাপা নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কেফায়েত উল্লাহ নজীব জানান, দলে অবমূল্যায়ন হওয়ায় জেলা জাপার সবাই তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। নাজিউর রহমান মঞ্জু বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) গঠনের পর ভোলায় তিনি নিজে জাপার হাল ধরেন বলেও দাবি করেন। ২০১৬ সালে এরশাদের গঠিত কমিটির সভাপতি তিনি। কিন্তু এক বছর আগে মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক করে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করেন জি এম কাদের। আজ পর্যন্ত সেই সম্মেলন করতে পারেননি।
বরগুনার রওশনপন্থি কমিটির সদস্য সচিব মাইনুল হাসান রাসেল জানান, সেখানে জাপার মূলধারার সবাই তাদের সঙ্গে আছেন। এমনকি জেলা শহরের দলীয় কার্যালয়ও তাদের নিয়ন্ত্রণে। এক বছর আগে অ্যাডভোকেট লতিফ ফরাজিকে সভাপতি ও মোস্তফা জামান লিটনকে সদস্য সচিব করে জি এম কাদেরপন্থিদের কমিটি থাকলেও সেটি অকার্যকর।

আরও পড়ুন

×