ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

মুক্তিপণ না পেয়ে শিশু শিক্ষার্থীকে হত্যা

মুক্তিপণ না পেয়ে শিশু  শিক্ষার্থীকে হত্যা

বায়েজিদ মাহমুদ

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৪ | ০০:২৭

সাত বছর বয়সী বায়েজিদ মাহমুদ পড়ত স্থানীয় হাফিজিয়া মাদ্রাসায়। হঠাৎ নিখোঁজ হয় সে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তার বাবা। এরপর মুক্তিপণ চেয়ে তার কাছে ফোন করা হয়। মুক্তিপণের ২ লাখ টাকা না পেয়ে হত্যা করা হয় শিশুটিকে। ঘটনাটি ঘটেছে ত্রিশাল উপজেলার সাখুয়া ইউনিয়নের নওপাড়া গ্রামে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে শিশুটির লাশ উদ্ধার ও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সাখুয়া ইউনিয়নের নওপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে বায়েজিদ মাহমুদ। সে পড়াশোনা করত স্থানীয় ইকরা নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসায়। গত ২৪ মার্চ দুপুরে মাদ্রাসা থেকে ফিরে বাড়ির পাশেই খেলাধুলা করছিল শিশুটি। সেখান থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয় সে। বাড়ির আশপাশে অনেক খোঁজাখুঁজির পর কোথাও তার সন্ধান মেলেনি। পরদিন সকালে শিশুটির বাবা জাহাঙ্গীর ত্রিশাল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। দুপুরের দিকে জাহাঙ্গীরের কাছে একটি নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়– ছেলেকে ফেরত পেতে চাইলে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। ওই দিনই মুক্তিপণ হিসেবে ২ লাখ টাকা দাবির বিষয়টি উল্লেখ করে ফোন নম্বরসহ ত্রিশাল থানায় জাহাঙ্গীর আলমের লিখিত অভিযোগ দিলে মামলা নেয় পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে শাপলা ইটভাটা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয় শিশু বায়েজিদকে অপহরণকারী সোহাগ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুক্তিপণের ২ লাখ টাকা না পেয়ে শিশুকে হত্যার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করে সোহাগ। সে একই গ্রামের ওয়াসিমের ছেলে।
সোহাগের তথ্যমতে বৃহস্পতিবার বিকেলে নওপাড়া গ্রামের একটি কলাবাগানে পরিত্যক্ত আরসিসি পাইপের ভেতর থেকে শিশুটির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে।

শিশুটির চাচা রাজিব বলেন, ‘কতটা হিংস্র হলে টাকার জন্য এত ছোট একটা শিশুর প্রাণ কেড়ে নিতে পারে? আমরা চাই এই হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।’ ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ জাহাঙ্গীর আলম সমকালকে শুধু বলেন, ‘কী অপরাধ ছিল আমার ছেলেটার?’

ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুক্তিপণের টাকা না পেয়েই শিশু বায়েজিদকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে সোহাগ। তার দেওয়া তথ্যমতে শিশুটির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×