ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

কুমারখালীতে আগুনে পুড়ে ছাই হলো দিনমজুরের স্বপ্ন

কুমারখালীতে আগুনে পুড়ে ছাই হলো দিনমজুরের স্বপ্ন

গোয়ালঘরের আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন স্থানীয়রা। ছবি: সমকাল

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৪ | ১২:৫৮

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দিনমজুর আরমান আলী (৪০)  নামের এক দিনমজুরের গোয়ালঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে থাকা দুইটি গরু ও একটি ছাগল পুড়ে মারা গেছে। এ সময় আরও একটি গাভী গরুর শরীরের প্রায় ৮০ ভাগ আগুনে ঝলসে গেছে।

বৃহস্পতিবার গভীর রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের জোতভালুকা গ্রামের অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে। আরমান ওই গ্রামের প্রয়াত আইজদ্দিন মণ্ডলের ছেলে। তিনি পেশায় দিনমজুরের কাজ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার তারাবির নামাজ পড়ে সবাই দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ে। রাত ১টার দিকে হঠাৎ আগুনে ঘুম ভাঙে আরমানের। পরে তার চিৎকারে প্রতিবেশিরা ছুটে এসে দেখেন, গোয়ালঘরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে প্রতিবেশিরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে আরমানের গোয়ালঘর, গোয়ালে থাকা দুইটি গরু ও একটি ছাগল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ সময় আরেকটি গাভী গরুর শরীর প্রায় ৮০ ভাগ আগুনে ঝলসে যায়।

আজ সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, একটি গর্ভবতী পুড়ে যাওয়া গরুকে মশারীর ভেতরে রাখা হয়েছে। গরুটির শরীরের ৮০ ভাগ পুড়ে গেছে। গোয়ালঘর পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে গেছে। পোড়া গোয়ালঘরের ভেতরে মরে পড়ে রয়েছে একটি বাছুর ও একটি ছাগল রয়েছে। পাশেই আরেকটি গরুর মরদেহ পড়ে আছে। বাতাসে রয়েছে পোড়া গন্ধ। উৎসুক জনতা বাড়িতে ভিড় করেছে। শোকে কান্নায় ভেঙে পড়েছে দিনমজুর আরমান ও তার স্ত্রী নাছরিন খাতুন।

এ সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে মো. আরমান আলী বলেন, ‘হঠাৎ ঘুম ভাঙে। দেখি, গোয়ালঘরে আগুন লেগে দাউ দাউ করে জ্বলছে। আগুনে আমার সব পুড়ে শেষ হয়ে গেছে।’ তিনি বলেন, মাত্র দুই ঘণ্টার আগুনে আমার সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।’

প্রতিবেশি বিল্লাল শেখ জানান, তিনি রাত দেড়টার দিকে গিয়ে দেখেন, বিশাল আগুন। লোকজন কলস, বালতির পানি দিয়ে আগুন নিভাচ্ছে। আনুমানিক রাত ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে তিনি জানান।

দিনমজুরের স্বপ্ন পুড়ে গেলেও অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি জানেন না কুমারখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা ও সদস্যরা। তবে ইউএনও মাহবুবুল হক জানান, আগুন লাগার খবর তিনি শুনেছেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত করে পরে জানানো যাবে। লিখিত আবেদন পেলে নিয়মানুযায়ী সহযোগিতা করা হবে।

আরও পড়ুন

×