পরিচালনা পর্ষদের শোকজ নোটিশ পাওয়ার পর কৈখালী এসআর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল বাসার ‘আত্মহত্যা’ করেছেন বলে জানা গেছে। আজ বুধবার বেলা দেড়টার দিকে উপজেলা সদরের গোপালপুর এলাকার ভাড়া বাসায় গাছের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন তিনি। শ্যামনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে।

নিহতের ভাই মো. আবুল খায়ের জানান, জটিল অপারেশনের কারণে কয়েক দিন ধরে আবুল বাসার ছুটিতে ছিলেন। আকস্মিকভাবে মঙ্গলবার দুপুরে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের বর্তমান কমিটির সভাপতির স্বাক্ষরিত শোকজ নোটিশ পান। সেখানে অর্থ তছরুপের অভিযোগ এনে চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া পৌনে ১ কোটি টাকা ফেরত দিতে বলা হয়। দ্রুত সে টাকা না দিলে তাকে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেওয়া হয়। এর পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

আবুল খায়ের আরও বলেন, ষড়যন্ত্র করে ভাইকে টাকা আত্মসাতের সঙ্গে জড়ানো হয়েছে। আমরা সভাপতিসহ পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করবো।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি কৈখালী ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম বলেন, আগের কমিটির কাছে টাকা দিয়ে চাকরি না হওয়া কয়েকজনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়। আগের কমিটির সভাপতি সব টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় প্রধান শিক্ষক বেকায়দায় পড়েন। এখন নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী ঘটনার দায় আমার ওপরও চাপাতে চেষ্টা করছেন।

তবে সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বলেছেন, দুই সহকারী শিক্ষক আব্দুল মান্নান, আব্দুল মজিদসহ বর্তমান সভাপতি প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয় থেকে সরাতে নানা ষড়যন্ত্র করছেন। তারা মামলার হুমকি ও শোকজ করার মাধ্যমে তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেছেন।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল ইসলাম বাদল জানান, শিক্ষক আবুল বাসারের পরিবার অভিযোগ করলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।