চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকদের অন্তর্কোন্দলের কারণে আটকে গেছে বিভাগের ৩টি বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা। এমনকি পরীক্ষা আদৌ স্থগিত হয়েছে কিনা, তাও জানেন না কেউ। এ অবস্থায় নির্দিষ্ট তারিখে কেন্দ্রে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, চবির উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন নিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা। এর জেরে বিভাগের তিনটি বর্ষের পৃথক পরীক্ষা কমিটির ১০ সদস্যদের মধ্যে সাতজনই পদত্যাগ করেছেন।

এতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা আটকে গেছে। এ কারণে গত সোমবার ও মঙ্গলবার পরীক্ষা দিতে এসে শিক্ষকদের কাউকে না পেয়ে ফিরে যান ছাত্রছাত্রীরা।

প্রথম বর্ষের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি (পদত্যাগ করেছেন) তাপস কুমার ভৌমিক বলেন, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ৫০ বছর পূর্ণ হয়েছে। বিভাগের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন নিয়ে গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর বিভাগের একাডেমিক কমিটির সভায় চলতি বছরের ৩ জানুয়ারির পরিবর্তে বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত হয়। পরে হঠাৎ করেই বিভাগের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ হারুন-উর-রশীদ ঘোষণা দেন সেই অনুষ্ঠান আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি হবে। তার এই হঠকারী একক সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে গত বৃহস্পতিবার পরীক্ষা কমিটি থেকে আমরা সাতজন পদত্যাগ করেছি। এভাবে তিনি প্রায়ই নানা বিষয়ে কাউকে পাত্তা না দিয়েই ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নেন।

বিভাগীয় চেয়ারম্যান হারুন-উর-রশীদের দায়িত্বের মেয়াদ আছে আরও তিন মাস। তাই তিনি তার দায়িত্বে থাকা অবস্থায়ই অনুষ্ঠানটি করতে চান। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমি তিন বছর ধরে এ বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছি। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভুল হওয়াটা স্বাভাবিক। এ নিয়ে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকতেই পারে। তাই বলে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি কেন করতে হবে? পরীক্ষার সঙ্গে অনুষ্ঠানের কী সম্পর্ক? সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠান বছর শেষে করার যৌক্তিকতা নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক চৌধুরী আমির মোহাম্মদ মুছা বলেন, বিভাগের এসব বিষয় সমাধান না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা হবে না। দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করা হবে। আপাতত এ সপ্তাহে কোনো পরীক্ষা হবে না। বিষয়টি সমাধান করে আগামী সপ্তাহ থেকে যথারীতি পরীক্ষাগুলো নেওয়া হবে।

উপ-উপাচার্য বেনু কুমার দে বলেন, উপাচার্য দাপ্তরিক কাজে ক্যাম্পাসের বাইরে থাকায় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক সমাধান দেওয়া যাচ্ছে না। তিনি এলে সংশ্নিষ্ট বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও অন্য শিক্ষকদের নিয়ে ১৫ জানুয়ারি বৈঠকে বসে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা হবে।