ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উপনির্বাচনে আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়াকে বিজয়ী করতে স্থানীয় একাধিক এমপি, কেন্দ্রীয়, জেলা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা এখন একাট্টা। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন গত দুদিন ধরে আবদুস সাত্তারের পক্ষে আশুগঞ্জ ও সরাইলে অবস্থান করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। দলের নেতাকর্মীকেও তিনি নির্দেশ দিয়েছেন আবদুস সাত্তারের সমর্থনে মাঠে কাজ করতে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগমও মাঠে কাজ করছেন আবদুস সাত্তারের পক্ষে।

উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের তিন স্বতন্ত্র প্রার্থী যারা দলীয় নির্দেশে তাঁদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করছেন, তাঁরাও চাইছেন আবদুস সাত্তার বিজয়ী হোক। জাতীয় সংসদ থেকে সদ্য পদত্যাগী এবং বিএনপি থেকে বহিস্কৃত আবদুস সাত্তারকে জেতাতে আওয়ামী লীগ কর্মীরা যেভাবে মরিয়া হয়ে কাজ করছেন, এটিকে অভূতপূর্ব বলে মনে করছেন এলাকার বিজ্ঞজন।

আজ মঙ্গলবারও আবদুস সাত্তারের সমর্থনে সরাইল উপজেলা কমপ্লেক্সে এক কর্মিসভা হয়। উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়ার সমর্থকগোষ্ঠীর ব্যানারে এ কর্মিসভা হলেও প্রকারান্তরে তা ছিল আওয়ামী লীগরই কর্মিসভা। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জাতীয় পার্টি (জাপা) মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ ভাসানী সরাইল প্রেস ক্লাবে এ দিন সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। সভায় বক্তারা বলেন, আপনাদের মহামূল্যবান সমর্থন দিয়ে হামিদকে এমপি নির্বাচিত করুন। এলাকার উন্নয়ন হবে, সমাজও পরিবর্তন হবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই পারে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে জাগ্রত রাখতে। সরাইলের উপনির্বাচন হবে সরকারের জন্য টেস্ট কেস। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়ার ওপরই নির্ভর করবে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভবিষ্যৎ।

অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী আশুগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপির বহিস্কৃত নেতা আবু আসিফ আহমেদও গতকাল দিনভর আশুগঞ্জের তারুয়া ও নাওঘাট এলাকায় গণসংযোগ করেন।