ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ক্রিকেট খেলা নিয়ে দু'পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল পর্যন্ত দফায় দফায় এ সংঘর্ষ চলে।

এতে পুলিশের দুই কনস্টেবল ও নারী-পুরুষসহ প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ শটগানের গুলি ছুঁড়ে এবং কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ফাটিয়ে বিকেল ৩টার দিকে পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তারা সকলে কাপুড়িয়া সদরদী এলাকার বাসিন্দা। অন্য আহতরা বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে কাপুড়িয়া সদরদী ও সোনাখোলা মহল্লার তরুণদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ জের ধরে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে সোনাখোলার ৩/৪ জন যুবক কাপুড়িয়া সদরদীর দুই যুবককে মারপিট করে। এর প্রতিবাদে কাপুড়িয়া সদরদীর লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে সোনাখোলা এলাকায় হামলা চালায়। এ সময় এক চাল ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করে তারা। পরে সোনাখোলার লোকজন প্রতিরোধ করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এ সময় উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও ইট নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মো. হেলালউদ্দিন ভুইঁয়া জানান, সকাল থেকে বিবাদমান দু'পক্ষ দফায় দফায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। দুপুর ২টার দিকে সংঘর্ষ মারাত্মক আকার ধারণ করে। পুলিশ গুলি ছুঁড়ে এবং কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ফাটিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়ারুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শটগানের ৪৫টি গুলি, সাতটি কাঁদানে গ্যাস ও দুটি সাউন্ড গ্রেনেড ফাটিয়ে উভয় পক্ষের লোকদের সরিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশের দুই কনস্টেবল আহত হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় কোনো অভিযোগ দেয়নি।