ফুটপাতের ওপর কাঠের বেঞ্চিতে কেউ সাজিয়েছেন ফলমূল, কেউবা কাপড়চোপড়। কেউ আবার গরম তেলে ভাজছেন পরোটা-শিঙাড়া। এ অবস্থা ঢাকার দোহার পৌরসভার দোহার-ঢাকা সড়কের পাশে। ছোট ছোট অস্থায়ী দোকানের পাশাপাশি স্থায়ী দোকানের ব্যবসায়ীদের মালপত্রও রাখা আছে ফুটপাতে। এতে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের। ভাসমান ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দোকান বসানোর জন্য দিন হিসেবে টাকা গুনতে হয় তাঁদের। এ টাকা নেন যে দোকানের সামনে ব্যবসা করেন, সেই দোকান মালিক।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা আশ্রাফুল গাজীকে নিয়মিত এ পথ ধরে যেতে হয়। তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদসংলগ্ন সড়কের দু'পাশের ফুটপাতে দোকানগুলো এমনভাবে বসানো হয়েছে, মনে হয় জায়গাটি দোকানপাটের জন্যই রাখা। বাধ্য হয়ে তাঁদের রাস্তা ধরে হাঁটতে হয়। এর ওপর অটোরিকশা ও গাড়ির যানজটে চলাচলই কঠিন হয়ে পড়ে।

থানার মোড় থেকে শুরু করে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকায় গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় দেখা যায় শ'খানেক অস্থায়ী দোকান। থানার মোড় এলাকার রজ্জব আলী মার্কেটের সামনের সড়কের ওপরই পাঁচ দোকানি অটোরিকশার যন্ত্রাংশ সাজিয়ে রেখেছেন। সীমা মিষ্টান্ন ভান্ডারের সামনে দেখা যায় মিষ্টির প্যাকেট। একইভাবে ফল সাজিয়ে রাখা মীম ফল ভান্ডারের সামনে।

মীম ফল ভান্ডারের মালিক আবুল কালাম বলেন, প্রতি মাসে তাঁকে দোকান ভাড়া দিতে হয় ১৬ হাজার টাকা। দু'জন কর্মচারীর বেতনসহ অন্যান্য খরচ রয়েছে। রাস্তার পাশে দোকান থাকলে ক্রেতা বেশি আসেন। তাই অন্য সবার মতো তিনিও দোকান বসিয়েছেন বলে দাবি করেন। কালাম জানান, থানার মোড় এলাকায়ই সড়কের ওপর অর্ধশতাধিক দোকান বসে।

সেখানে কথা হয় অস্থায়ী ফল ব্যবসায়ী কুদ্দুস, সোনামুদ্দিন, সালাম, জনতা রেস্টুরেন্টের মালিক সেন্টুর সঙ্গে। তাঁরা বলেন, যে জমিতে দোকান বসিয়েছেন, ওই জায়গার মালিক বাজার কমিটির সভাপতি হারুন মেম্বার। তাঁকেই ভাড়া দেন।

এ বিষয়ে থানার মোড় বাজার কমিটির সভাপতি হারুন অর রশিদ মাতবর বলেন, 'থানার মোড় সড়ক ঘেঁষে আমার মার্কেট। ২০০১ সালে আমাদের রেকর্ডভুক্ত সম্পত্তির ওপর দিয়ে মহাসড়ক তৈরি হয়। এতে আমার ৫১ শতাংশ জমি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) লাল নিশান পুঁতে অধিগ্রহণ করেছে।' তবে এর জন্য একটি টাকাও পাননি জানিয়ে তিনি প্রশ্ন করেন, 'আমি কেন সড়কে দোকান বসাব? দোকানিরাই ভাড়া নিয়ে সড়কের ওপর মালপত্র বসিয়ে বিক্রি করেন।' এ বিষয়ে তিনি অনেকবার মানা করলেও তাঁরা কথা শোনেন না বলে দাবি করেন।

বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় সম্পাদক শেখ সালাহ উদ্দিন। তিনি বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুবলীগের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ আলমাস উদ্দিনের বাড়ির সামনে থেকে থানার মোড় পর্যন্ত রাস্তার দু'পাশেই প্রতিদিন সকালে ভ্রাম্যমাণ দোকান বসানো হয়। তাঁরা এক বছর আগেও ওইসব দোকান উচ্ছেদ করেন। তবে প্রভাবশালীরা দু-তিন দিনের মাথায় আবারও দোকান বসিয়েছে। ওই চক্রই দোকান থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করে।

দোহার পৌরসভার মেয়র মো. আলমাছ উদ্দিন বলেন, জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ও পৌর এলাকার সৌন্দর্য বাড়াতে তাঁরা সড়ক চওড়া করে পাকা করেছেন। তবে ভ্রাম্যমাণ ব্যাবসায়ীরা ওই সড়কের ওপর দোকানপাট বসিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোবাশ্বের আলম বলেন, ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির সভায় বারবার ব্যবসায়ী নেতাদের তাগাদা দেওয়া হয়েছে। শিগগির উচ্ছেদ অভিযান চালাবেন।