শেরপুরে স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামি এবং অটোচালক হত্যায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার ভোরে তাদের গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

গ্রেপ্তার কালু মিয়া ওরফে সামিউল ইসলাম (৪০) ঝিনাইগাতী উপজেলার বাকাকুড়া গ্রামের প্রয়াত মজিবর রহমানের ছেলে। তাকে গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো. সাগর (২৬) শেরপুর পৌর এলাকার দমদমা-কালীগঞ্জ মহল্লার শাজাহান আলীর ছেলে। তাকে গাজীপুর সদর থানার রাজেন্দ্রপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি অটোচালক মো. রেজ্জাক (৩৫) হত্যা মামলার আসামি।

র‌্যাব ১৪-এর স্কোয়াড্রন লিডার কোম্পানি কমান্ডার আশিক উজ্জামান জানান, পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে বাকাকুড়া গ্রামের আমান উল্লাহ (২৩)। ২০১৬ সালের ১৯ জুলাই সহযোগী কালুকে মেয়েটির কাছে পাঠায় আমান। মেয়েটিকে কালু জানায়- আমান তাকে বিয়ে করবে। কালুর কথায় বিশ্বাস করে বাড়ি থেকে বের হয় সে। এরপর দলবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় মেয়েটি। ওই বছরের ২১ জুলাই একটি খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যা মামলা হলে পালিয়ে যায় কালু। পরে ২০১৮ সালের ১৮ জুলাই কালুকে মৃত্যুদণ্ড দেন শেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।

র‌্যাব কর্মকর্তা আশিক উজ্জামান বলেন, ভাড়ায় অটোরিকশা চালাতেন মো. রেজ্জাক। ২০১৬ সালের ৭ মার্চ রাতে অটোরিকশা নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তিনি। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে জানা যায়- মিল্টন, সাগরসহ কয়েকজন নিহতের অটোরিকশায় উঠে জেলখানার মোড় থেকে আখের মাহমুদ বাজারের দিকে যায়। পরদিন ৮ মার্চ সকালে স্থানীয় মোবারকপুর মহল্লার মোহাম্মদ আলীর ইটের ভাটার ভেতর থেকে রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে নিহতের স্ত্রী সদর থানায় মামলা করেন। এরপর আত্মগোপনে চলে যায় আসামি সাগর। গত বছরের ৬ এপ্রিল তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন শেরপুর জেলা ও দায়রা জজ।