মাস্টার্স পাস করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে সদ্য নিয়োগ পান ফারুক আহমেদ। গত ২৪ জানুয়ারি কর্তৃপক্ষের নির্দেশে নিজের বাড়ির পাশের একটি বিদ্যালয়ে যোগদান করেন তিনি। কিন্তু ওই দিন বিকেলেই তাঁকে অন্য একটি বিদ্যালয়ে বদলি করে সেখানে অন্য একজনকে যোগদানের আদেশ দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় বুধবার বিদ্যালয় অবরোধ করে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এক পর্যায়ে বদলির আদেশ বাতিল করার ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এই ঘটনা ঘটেছে নান্দাইল উপজেলার রসুলপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সারাদেশে বেশ কিছু নতুন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে। সে অনুযায়ী নান্দাইল উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেন ১০৩ জন। তাঁদেরই একজন রসুলপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে ফারুক আহমেদ। রসুলপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগের আদেশ পান তিনি। গত ২৪ জানুয়ারি সকাল ৯টায় ওই বিদ্যালয়ে যোগদান করে কাগজপত্র নিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা দিতে যান তিনি। একই দিন পাঁচরূখী পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন নান্দাইল পৌর সদরের চণ্ডীপাশা আবাসিক মহল্লার সানজিদা ইকবাল ইভা।

বুধবার সকাল ৯টায় রসুলপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে হাজিরা খাতায় সই করেন ফারুক আহমেদ। এর কিছুক্ষণ পরই সেখানে হাজির হন সহকারী শিক্ষক সানজিদা ইকবাল ইভা। তাঁকে ওই বিদ্যালয়ে যোগদান করতে দিতে একটি অফিস আদেশ প্রধান শিক্ষকদের হাতে দেন। যেহেতু এ পদে একজন যোগদান করেছেন, তাই তিনি (প্রধান শিক্ষক) ইভার যোগদানপত্র গ্রহণ করেননি। এর মধ্যে এলাকার ছেলে শিক্ষক ফারুক আহাম্মদকে বদলি করে তাঁর স্থলে অন্য একজন যোগদান করতে এসেছেন- এমন খবর পান স্থানীয়রা। আগের আদেশ বহাল রাখার দাবিতে বিদ্যালয় অবরোধ করেন তাঁরা। বন্ধ থাকে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড।

রসুলপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম জানান, এ অচলাবস্থা নিরসনের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার (ইউপিইও) সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করেন তিনি। ইউপিইও বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়ে বিষয়টির সমাধান চান।

স্থানীয় অভিভাবকদের মনোভাব বুঝতে পেরে সানজিদা ইকবাল ইভা বলেন, আগের কর্মস্থলেই ফিরে যাবেন তিনি। এর পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।

সহকারী শিক্ষক ফারুক আহমেদ জানান, বুধবার সকাল ৯টায় বিদ্যালয়ে গিয়ে হাজিরা খাতায় সই করার পর সানজিদা ইকবাল ওই বিদ্যালয়ে যোগদান করতে যান। তাঁর হাতে থাকা বদলির আদেশ থেকে জানতে পারেন, তাঁকে (ফারুককে) পাঁচরূখী পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। তবে পরে সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রথমে যোগদান করা বিদ্যালয়েই শিক্ষকতা করবেন তাঁরা।

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকীর সঙ্গে। তাঁর দাবি, এ বিষয়ে আগে কিছুই জানতেন না তিনি।

ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল হক জানান, শিক্ষক ইভার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুই শিক্ষককে বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় আগের কর্মস্থলেই থাকবেন তাঁরা।