কক্সবাজার শহর থেকে সমুদ্রপথে ৮০ কিলোমিটার দূরে মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের পানিরছড়া ও মোহরাকাটা এলাকা। মহেশখালী উপজেলার অমাবশ্যাখালী মৌজার এ এলাকাগুলো ১৯৭৭ ও ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত সরকারি গেজেটভুক্ত বনভূমি। চিংড়ি চাষের জন্য এ এলাকায় প্রায় ৫০০ একর বনভূমি দখল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত কিছুদিনে সেখানকার প্যারাবনের অন্তত তিন লাখের বেশি গাছ কাটা হয়েছে। বন ধ্বংসের এই প্রক্রিয়া এখনও অব্যাহত আছে। এ ঘটনায় গত শনিবার পর্যন্ত বনদস্যুদের বিরুদ্ধে অন্তত ৫টি মামলা করেছে বন বিভাগ।

বন বিভাগ জানিয়েছে, কক্সবাজার উপকূলে চিংড়ি চাষের নামে নির্বিচারে বন ধ্বংস করায় ২০১২ সালে জনস্বার্থে হাইকোর্টে একটি রিট মামলা করে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। যার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭৭ ও ১৯৮৫ সালে সরকারিভাবে প্রকাশিত গেজেটভুক্ত বনভূমির কোনো জমি নতুন করে ইজারা না দিতে এবং এরই মধ্যে দেওয়া সব ইজারার নবায়ন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

এদিকে, গতকাল রোববার জাতীয় চিংড়ি মহাল কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেলার দায়ের করা রিট মামলাভুক্ত জমির বিষয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করতে কক্সবাজার পৌঁছেছে ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত ৬ সদস্যের কমিটি। কমিটির সদস্যরা হলেন- ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি, কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও চিংড়ি চাষি দিদারুল ইসলাম চৌধুরী।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও কমিটির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে, জাতীয় চিংড়ি মহাল কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেলার দায়ের করা রিট মামলাভুক্ত জমির বিষয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলে ভূমি মন্ত্রণালয় ওই কমিটি গঠন করে। কমিটি রিট মামলা সংশ্নিষ্ট অক্ষাংশ দ্রাঘিমাংশের ভিত্তিতে ভিডিওচিত্র ধারণসহ ২৯ থেকে ৩১ জানুয়ারি সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবে। তবে কমিটির এক সদস্য সমকালকে জানিয়েছেন, চিঠিতে তিন দিন পরিদর্শনের কথা বলা হলেও তাঁরা পানিরছড়া ও মোহরাকাটা এলাকা পরিদর্শন করবেন ৩০ জানুয়ারি এক দিন।