ঢাকা শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪

দাম শুনে চলে যাচ্ছে ক্রেতা

দাম শুনে চলে যাচ্ছে ক্রেতা

সাদুল্লাপুরে ফুটপাতের দোকানে পোশাকসহ বিভিন্ন সামগ্রী কিনতে নিম্ন আয়ের মানুষের ভিড় সমকাল

শাহজাহান সোহেল, সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা)

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৪ | ২২:৩২

ঈদের কেনাকাটা করার জন্য সাদুল্লাপুর শহরে এসেছিলেন হালিমা বেগম। দরিদ্র পরিবার। স্বামী দিনমজুরি করে সংসার চালান। তিন সন্তানের জন্য নতুন পোশাক কিনতে চান তিনি। এরপর নিজের ও স্বামীর জন্য কেনার কথা ভাববেন। সব মিলিয়ে ১ হাজার ২৫০ টাকা এনেছিলেন। তবে বড় দোকানে চড়া দাম দেখে এ টাকায় সবার নতুন পোশাক কেনা সম্ভব হবে না বলে নিশ্চিত হন। পরে ফুটপাতের দোকানে এসেছেন জানিয়ে হালিমা বলেন, স্বল্প দামে নতুন পোশাক কিনবেন।
ঈদে সবার চাই নতুন পোশাক। ধনী কিংবা গরিব সবাই আশা নিয়ে আসেন দোকানে। কিন্তু উচ্চমূল্যের কারণে অনেকের নতুন পোশাক কেনা সম্ভব হচ্ছে না। বেশি বঞ্চিত হচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। গতকাল শুক্রবার কথাগুলো বলছিলেন সাদুল্লাপুর শহরের মিনতি বস্ত্রালয়ের মালিক মিঠু সাহা। তাঁর ভাষ্য, ঈদ সামনে রেখে প্রতিদিন যে পরিমাণ বিক্রির আশা করেছিলেন, সেটি হচ্ছে না। অথচ দোকান ভর্তি নতুন পোশাক রয়েছে। দোকানে এবার ক্রেতার সংখ্যা কম।

সাদুল্লাপুরে তৈরি পোশাক ও কাপড়ের দোকানে এখনও প্রত্যাশা অনুযায়ী বিক্রি শুরু হয়নি বলে জানিয়েছেন মালিকরা। তারা বলছেন, ক্রেতা এলেও দাম শুনে ফেরত যান। অধিকাংশ ক্রেতার অভিযোগ, পোশাকের দাম বেশি। তাতে সবার বাজেটে কুলায় না। বেশি দামে কিনতে গেলে পরিবারের সবার জন্য নতুন পোশাক কেনার টাকা জুটবে না। তাই বিকল্প ভাবতে হচ্ছে তাদের। এ জন্য নিম্ন আয়ের মানুষ ভিড় করছেন ফুটপাতে।
শহরের আবু হোসেন মার্কেটে তৈরি পোশাকের দোকান রয়েছে হিরু মিয়ার। তাঁর দোকানে ক্রেতা এসে পোশাক দেখলেও দাম শুনে চমকে ওঠেন। অথচ আগে ৯-১০ রমজানেই দিনে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার ওপরে বিক্রি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখন অর্ধেকও বিক্রি হচ্ছে না। মার্কেটের অধিকাংশ ব্যবসায়ীর প্রায় একই অবস্থা। তাঁর মতে, তৈরি পোশাকের দাম বাড়ায় কমেছে ক্রেতা।

দোকানে দাম বেশি হলেও ফুটপাতে নতুন পোশাক কম দামে পাওয়া যায় বলে জানান রিকশাচালক রচই উদ্দিন। তাঁর কথায়, ‘আমাদের পক্ষে বড় দোকানে গিয়ে পরিবারের সবার জন্য নতুন পোশাক কেনা সম্ভব না। সে জন্য ফুটপাতের দোকান থেকে সন্তানদের জন্য নতুন কাপড় কিনব। এসব কাপড় নিম্নমানের হলেও ঈদের দিন সন্তানদের বোঝানো যাবে, নতুন কাপড় দিয়েছি।’
ফুটপাতের দোকানে ২৫০ টাকার মধ্যেই ছোট ছেলেদের শার্ট অথবা গেঞ্জি পাওয়া যায় বলে জানান সাদুল্লাপুর বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন। তিনি বলেন, এ দোকানেই ছোট মেয়েদের পোশাক পাওয়া যাবে ৩০০ টাকার মধ্যে। আর বড় ছেলেমেয়ের পোশাক পাওয়া যাবে ৪০০ টাকায়। তাই এ দোকানে ক্রেতার ভিড় বেশি থাকে।

একই বাজারের ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলাম বলেন, ফুটপাতে নিম্ন আয়ের মানুষ বেশি কেনাকাটা করে। এসব দোকানে স্বল্প দামে পোশাক পাওয়া যায়। এগুলো না থাকলে অনেকের পক্ষে ঈদে নতুন পোশাক কেনা সম্ভব হতো না। তাই ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ফুটপাতের দোকানে ততই ভিড় বাড়ছে।

আগে ১০ রমজানের পর নতুন কাপড় সেলাইয়ের অর্ডার নিতেন না থানা গেট এলাকার দর্জি আইনুল হক। অথচ এখন ২০ রমজান চলে এলেও তেমন অর্ডার নেই। তিনি বলছিলেন, কাপড়ের বাড়তি দামের কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। এর সঙ্গে দাম বেড়েছে সুতা, বোতাম, বক্রোম, মেশিনের তেলসহ আনুষঙ্গিক জিনিসের। তাই সেলাইয়ের মজুরি বাড়ানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মসজিদ গেট এলাকার ব্যবসায়ী আলহাজ দেলাত হোসেন বলেন, ঈদের কেনাকাটার জন্য ১০ জন ক্রেতা এলে আটজনই কিছু না কিনে ফিরে যান। সব ক্রেতার অভিযোগ, দাম বেশি। এ নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার তর্কাতর্কি হচ্ছে।
এবার দোকানে প্রচুর নতুন পোশাক রয়েছে জানিয়ে সাদুল্লাপুর বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান সাবু বলেন, আগের মতো বিক্রি নেই। নতুন কাপড়সহ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। কিছু জিনিস মানুষের ক্রয়ক্ষমতার
বাইরে। উচ্চমূল্যের কারণে খেটে খাওয়া দরিদ্র মানুষ বেশি বিপদে আছেন।

আরও পড়ুন

×