ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

টার্মিনাল ও পাবলিক টয়লেট না থাকায় যাত্রী ভোগান্তি

টার্মিনাল ও পাবলিক টয়লেট  না থাকায় যাত্রী ভোগান্তি

ফরিদপুর-ভাঙ্গা-খুলনা মহাসড়কের ভাঙ্গা পৌরসভাসংলগ্ন এলাকায় যত্রতত্র গাড়ি পার্ক করে রাখায় দুর্ভোগের শিকার পথচারীরা সমকাল

সাইফুল ইসলাম শাকিল, ভাঙ্গা (ফরিদপুর)

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৪ | ২৩:১৬ | আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৪ | ২৩:৫৭

দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার মানুষের অন্যতম প্রবেশদ্বার দৃষ্টিনন্দন ভাঙ্গা ইন্টারচেঞ্জ এলাকায় নেই কোনো পৌর টার্মিনাল, বিশ্রামাগার ও পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এ অঞ্চল দিয়ে যানবাহন চলাচল কয়েক গুণ বেড়েছে। ফলে হাজার হাজার যাত্রী ও শ্রমিক-চালককে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়রা বলছেন, অন্যান্য বছরের মতো এবারও ঈদে ঘরমুখো মানুষ চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হবেন। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, জনদুর্ভোগ নিরসনে ইন্টারচেঞ্জ এরিয়ার পাশেই একটি বাস টার্মিনাল নির্মাণ জরুরি।

ভাঙ্গা সরকারি কলেজ, পাইলট স্কুল ও মহিলা ডিগ্রি কলেজের একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী জানান, মহাসড়কের পাশে বাস-ট্রাক পার্কিংয়ের কোনো সুব্যবস্থা না থাকায় যত্রতত্র গাড়ি পার্ক করা হচ্ছে। ভাঙ্গা ইন্টারচেঞ্জ এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ফ্লাইওভার, গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ ও আঞ্চলিক মহাসড়কে গাড়ি রাখা হয়। যেখানে মর্জিমাফিক ট্রাক-লরি, পিকাপ, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার, লেগুনা, আটো-মাহিন্দ্র, লোকাল বাস পার্ক করা হচ্ছে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসা-যাওয়ার বাইপাস সড়কগুলোতে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট ও ঘটছে দুর্ঘটনা। প্রতিনিয়তই চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

স্থানীয়রা জানান, ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কের বাজারপাড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গড়ে ওঠা অপরিকল্পিত বাস কাউন্টারগুলোতে যাত্রী ওঠানামা করায় বেশিরভাগ সময়ই এ এলাকায় যানজট লেগে থাকে। তারা জানান, দূরপাল্লার বাস-ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন ইন্টারচেঞ্জ এরিয়া ঘুরেই দক্ষিণবঙ্গের চারটি রুটে প্রবেশ করে।
দিনরাত সবসময়ই যানজট হয় ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা পৌর বাজারসংলগ্ন বাসস্ট্যান্ড এলাকা ও ঢাকা-ভাঙ্গা-খুলনা মহাসড়কের পৌরসভার সামনের দিকে। এখানে যানজট নিরসনের ক্ষেত্রে ভাঙ্গা ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের অবহেলার অভিযোগ রয়েছে।

ভাঙ্গা পৌরসভার বাসিন্দা শামীম শেখ জানান, ফরিদপুর-ভাঙ্গা-খুলনা মহাসড়কের হাইওয়ে থানার সামনে মহাসড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ঘটনাকবলিত বাস অপরিকল্পিতভাবে রাখা হয়েছে। এ কারণে বর্তমানে জায়গাটি পথযাত্রীদের প্রস্রাবের স্থানে পরিণত হয়েছে। এতে ছড়িয়ে পড়ছে রোগ জীবাণু, নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ।

ভাঙ্গা মডেল মসজিদের কয়েকজন মুসল্লি জানান, বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির প্রায় ৭০-৮০টি বাস মডেল মসজিদের সামনে পার্ক করে রাখা হয়। ফলে কিছু সময় পরপরই মহাসড়কসহ বাইপাস সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। তাছাড়া এসব গাড়ির নিচে জমে থাকে দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা ও আবর্জনা। এ পরিবেশেই নামাজ পড়তে যাচ্ছেন মুসল্লিরা।

ইন্টারচেঞ্জ এলাকার পাশের একটি পৌর টার্মিনাল, পাবলিক টয়লেট ও শৌচাগার নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের। সমস্যার আপাত সমাধানে এবারের ঈদে ঘরমুখো মানুষ ও শ্রমিকদের জন্য অস্থায়ী পাবলিক টয়লেট বসানোর দাবি জানান তারা।

লেগুনা চালক মোস্তফা ভূঁইয়া, কালাম শেখসহ কয়েকজন জানান, বাস টার্মিনাল না থাকায় ইন্টারচেঞ্জ এরিয়াসংলগ্ন বঙ্গবন্ধু চত্বরে প্রায় ৩০-৩৫টি লেগুনা পার্ক করা হয়। এসব গাড়ি ভাঙ্গা থেকে মুকসুদপুরে যাতায়াত করে। তাদের গাড়িতে প্রায়ই বয়স্ক পথযাত্রী, প্রতিবন্ধী, নারী ও রোগীরা যাতায়াত করেন। পাবলিক টয়লেট না থাকায় অনেকেই রাস্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েন।

ভাঙ্গা মাইক্রোবাস সমিতির সভাপতি খলিলুর রহমান জানান, ভাঙ্গায় ১১০টি ছোট-বড় মাইক্রোবাস রয়েছে। টার্মিনাল না থাকায় মহাসড়কের পাশ দিয়ে এসব গাড়ি যত্রতত্র পার্ক করছেন তারা। এতে বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন তারা। পয়ঃনিষ্কাশন ও গোসলের কোনো সুব্যবস্থা নেই তাদের। পৌর বাস টার্মিনাল না থাকায় মহাসড়কের পাশ দিয়ে বাসগুলো নিজ দায়িত্বে রাখতে হচ্ছে। এতে প্রায়ই বাসের ব্যাটারি ও তেল চুরি হয়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে ভাঙ্গা উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আকরামুজ্জান রাজা মিয়া বলেন, টার্মিনারে পাবলিক টয়লেটের সুব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই তাদের দলীয় কার্যালয়ের টয়লেট ব্যবহার করতে যান পথযাত্রীরা। সেক্ষেত্রে দলীয় নেতাকর্মীরা বিড়ম্বনার শিকার হন। সেক্ষেত্রে দ্রুত পাবলিক টয়লেট নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

ভাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র আবু ফয়েজ মো. রেজা সমকালকে জানান, ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সঙ্গে ভাঙ্গা পৌর টার্মিনালের জায়গা নির্ধারণের বিষয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন।

তিনি বলেন, ঈদে ঘরমুরখো যাত্রীদের জন্য ভাঙ্গা পৌরসভার টয়লেট ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ঈদে ঘরমুখো মানুষ ও স্থানীয়দের জন্য ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম কুদরত-এ-খুদা সমকালকে জানান, এখানে একটি বড় আন্তঃউপজেলা টার্মিনাল তৈরি করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

আরও পড়ুন

×