ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

প্রতিদিন ৫ শতাধিক মানুষকে ইফতার করান তারা

প্রতিদিন ৫ শতাধিক মানুষকে ইফতার করান তারা

রাজশাহী কোর্ট স্টেশন এলাকায় শুক্রবার আজিজুল আলম বেন্টু ও নাসিমা আলম লিপি দম্পতির আয়োজিত ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে মোনাজাতে রোজাদাররা সমকাল

সৌরভ হাবিব, রাজশাহী

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৪ | ২৩:২৮ | আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৪ | ২৩:২৮

সারাদিন রোজা রেখে হতদরিদ্র অনেকেই ভালো ইফতার করতে পারেন না। আবার রোজাদারদের ইফতার করানোর মধ্যে আছে অনেক পুণ্য। এই দুটি বিষয় মাথায় রেখে ১২ বছর ধরে রমজানজুড়ে শত শত মানুষকে ইফতার করাচ্ছেন রাজশাহীর এক দম্পতি। হতদরিদ্র মানুষের সঙ্গে বসেই ইফতার করেন তারা।

নগরীর হড়গ্রাম এলাকার আজিজুল আলম বেন্টু ও নাসিমা আলম লিপি নামের এ দম্পতি মানুষকে ইফতার করিয়ে পান পরম শান্তি। আজিজুল আলম বেন্টু পেশায় ব্যবসায়ী ও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। স্ত্রী নাসিমা আলম লিপি গৃহিণী।

শুধু রমজানের ইফতার নয়, নগরীর আলুপট্টিতে লবঙ্গ রেস্টুরেন্টে করোনাকাল থেকে বেন্টু হতদরিদ্র মানুষকে খাওয়াচ্ছেন রাতের খাবার। এখানেও প্রতিদিন শতাধিক মানুষ রাতের খাবার খেয়ে ঘুমাতে যান।
রাজশাহী কোর্ট স্টেশন এলাকায় বেন্টুর কার্যালয়। এখানে ২০১৩ সাল থেকে তিনি সাধারণ রোজাদারদের জন্য ইফতারের আয়োজন করছেন। গত বছর হড়গ্রামে নিজ বাড়িসংলগ্ন স্থানে নির্মাণ করেছেন দৃষ্টিনন্দন মসজিদ। এখানেও এ বছর থেকে ইফতার চালু করেছেন। দুই স্থানে প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক মানুষ ইফতার করেন। এই ইফতার আয়োজনে হতদরিদ্র, মেসে থাকা শিক্ষার্থী ছাড়াও এলাকার গরিব মানুষ অংশ নেন।

হতদরিদ্র রোজাদার বেলাল হোসেন বলেন, অনেক বছর ধরেই এই কোর্টবাজারে বেন্টু মামার ইফতার হয়। আমি তিন বছর ধরে ইফতার করি। গোদাগাড়ী থেকে শহরে এসে রিকশা চালান মোসলেম উদ্দীন। তিনি বলেন, সারাদিন শহরে রিকশা চালাই। ফেরার পথে এখানে ইফতার করে বাড়ি যাই। পথশিশু মো. রাকিব জানায়, মাংস দিয়ে বিরানি দেয়। জিলাপি, বেগুনি, তরমুজ, খেজুর সবই পায় সে। এতে তার খুবই ভালো লাগে।
বেন্টু-লিপির প্রতিদিনের এই ইফতারে থাকে তেহারি, খেজুর, জিলাপি, পেঁয়াজু, তরমুজ, বেগুনি, শরবত, আপেল, মাল্টা, শসাসহ বিভিন্ন ফলের সমাহার। বেন্টুর অর্থে এসব ইফতারি বিতরণ ও তদারকি করেন ‘নতুন প্রজন্ম’ নামের একটি সংগঠনের সদস্যরা। স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনটিও ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠা করেন বেন্টু। এর উদ্দেশ্য যুবসমাজকে সুপথে রাখা।

ইফতার আয়োজক বেন্টু বলেন, ‘বাজার থেকে মাংস কিনি না। পুরো গরু কিনে ভাগ ভাগ করে ফ্রিজে রাখি। প্রয়োজন মতো ব্যবহার করি। মানুষকে খাওয়াতে
পারলে মনে খুবই শান্তি পাই।’ বেন্টুর স্ত্রী লিপি বলেন, ‘রমজানে মাসব্যাপী ইফতার আয়োজন করে আসছি। খুবই ভালো লাগে।’

 

আরও পড়ুন

×