ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

সড়কে পড়ে থাকে বর্জ্য চলতে হয় নাক চেপে

খুলনা মহানগর

সড়কে পড়ে থাকে বর্জ্য চলতে হয় নাক চেপে

খুলনা নগরীর কেডিএ সড়কে অর্ধেকজুড়ে ময়লা-আবর্জনা। শুক্রবার তোলা সমকাল

মামুন রেজা, খুলনা

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৪ | ২৩:৩৭ | আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৪ | ২৩:৩৮

নগরীর কেডিএ অ্যাভিনিউয়ে রাশিদা মেমোরিয়াল ক্লিনিকের পাশে সকাল সাড়ে ৯টায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের অর্ধেকজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ময়লা-আবর্জনা। পথচারীরা পার হচ্ছেন নাক চেপে। সেখানে আলাপকালে ইজিবাইক চালক সাইদুর রহমান বলেন, এ রাস্তা দিয়ে যাওয়া-আসার সময় প্রতিদিনই তিনি ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখেন।

সকাল ১০টায় ওই সড়কের প্রিন্স ডায়াগনস্টিকের পাশে গিয়েও দেখা যায় একই চিত্র। সড়কের অর্ধেক জুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা। কাক আর কুকুর খাবারের সন্ধান করায় এগুলো আরও ছড়িয়ে পড়ছে। দিনের পর দিন চলছে এ অবস্থা।
শুধু এ দুই স্থানই নয়, নগরীর ১৫৯টি স্থানে সড়কের ওপর এভাবে দিনের অনেক সময় ময়লা-আবর্জনার স্তূপ পড়ে থাকে। ফলে দুর্গন্ধে আশপাশের মানুষ ও পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ ঠিকমতো ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করছে না। ফলে খুলনা নোংরা ও দুর্গন্ধের নগরীতে পরিণত হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধীনে বর্তমানে ৫৮২ জন স্থায়ী ও আউট সোর্সিংয়ে ২০০ জন শ্রমিক-কর্মচারী সড়ক ঝাড়ু দেওয়া, বর্জ্য অপসারণ, ড্রেন পরিষ্কারের কাজে নিযুক্ত। কিন্তু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধীনে নিয়োগ হওয়া ৪০০ শ্রমিক-কর্মচারী সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের দাপ্তরিক কাজে নিয়োজিত। তারা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজ করেন না।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯৪ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত প্রয়াত শেখ তৈয়েবুর রহমান মেয়র থাকাকালে মাস্টাররোলে অনেক শ্রমিক-কর্মচারী নিয়োগ দেন। এর বড় অংশই ছিল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে। অনেকেই এইচএসসি থেকে মাস্টার্স পাস। ফলে তারা কখনও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজে নিযুক্ত হননি। তাদের দিয়ে দাপ্তরিক নানা কাজ করানো হচ্ছে।

প্রতিদিন নগরীতে প্রায় ১ হাজার টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। কেসিসি কর্মকর্তাদের দাবি, ট্রাকসহ ৮৭টি যানবাহন ও ৩৫০টি ভ্যানের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৮০০ টন তারা অপসারণ করেন। ২০০ টন ময়লা লোকজন ড্রেনে, বাড়ি ও রাস্তার পাশে এমন জায়গায় ফেলেন, সেখান থেকে অপসারণ সম্ভব হয় না।
নগরীর প্রান্তিক মার্কেটের সামনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কেসিসির দেওয়া কনটেইনারের বাইরেও পড়ে আছে বর্জ্য।

নিরালা মোড় ও মজিদ সরণিতে হোটেল মিলেনিয়ামের বিপরীতে ময়লা ফেলার স্থানের পাশে সিটি করপোরেশন দেয়াল তৈরি করে দিয়েছে। দেয়ালের কারণে এখন রাস্তা থেকে ময়লা দেখা যায় না। কিন্তু দুর্গন্ধ আছে আগের মতোই।
কেসিসি সূত্র জানায়, নগরীর ৮২টি পয়েন্টে সড়কের ওপর ও ৭৭টি পয়েন্টে কনটেইনারের মধ্যে নগরবাসী ময়লা-আবর্জনা ফেলেন। কিন্তু কনটেইনারগুলো ভরে যাওয়ার পর ময়লা ফেলা হয় এর পাশে সড়কের ওপর। সেখান থেকে কেসিসি কর্মীরা ভ্যান ও ট্রাকে করে ময়লা সাতটি এসটিএস (সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন) এ নিয়ে যান। এসটিএস থেকে ট্রাকে করে ময়লা নিয়ে রাজবন্ধ এলাকায় ডাম্পিং করা হয়।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, নগরবাসী চায় ক্লিন ও গ্রিনসিটি। কিন্তু তাদের সেই প্রত্যাশা সিটি করপোরেশন পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। নগরীর বর্জ্য ঠিকমতো অপসারণ করা হয় না। এ জন্য কেসিসির অব্যবস্থাপনা দায়ী।

কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, নগরীর কোনো পয়েন্ট থেকে দিনে একবার, কোনো পয়েন্ট থেকে দুইবার; আবার যেসব পয়েন্টে বেশি ময়লা ফেলানো হয়, সেখান থেকে তিনবার ময়লা অপসারণ করা হয়। কিন্তু নগরবাসী যখন খুশি তখন ময়লা ফেলেন। অপসারণের কিছু সময় পর দেখা যায় অনেকে ময়লা ফেলেছেন। তখন সেই ময়লা অপসারণ করতে সময় লাগে। তিনি বলেন, কেসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রায় ৪০০ জন শ্রমিক-কর্মচারী উচ্চ শিক্ষিত। তারা এ কাজ করতে চান না। তাদের দিয়ে অফিসিয়াল কাজ করানো হয়।

আরও পড়ুন

×