অমর একুশে বইমেলার প্রথম সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছিল গতকাল শুক্রবার। এদিন দুপুর গড়াতেই বাড়তে থাকে পাঠক ও ক্রেতার ভিড়। বিকেলে পা ফেলারও জায়গা ছিল না। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণ ভরে যায় কানায় কানায়। মেলার তৃতীয় দিনে এমন দৃশ্যে খুশি লেখক-প্রকাশকরা।

শিশুপ্রহর থাকায় গতকাল সকাল ১১টা থেকে মা-বাবা ও স্বজনদের হাত ধরে মেলায় আসতে থাকে শিশুরা। দুপুরের পর পাঞ্জাবি ও শাড়ি পরে মেলায় প্রবেশ করতে থাকেন তরুণ-তরুণীরা। দুপুরের বাতাস ও তরুণীদের হাতে-মাথায় শোভা পাওয়া ফুল যেন বসন্তের আগমনী বার্তা দিচ্ছিল। লাল শাড়ি, হাতে চুড়ি ও খোঁপায় ফুলের মুকুট পরে টিএসসি ফটক দিয়ে মেলায় ঢুকছিলেন নাজনীন আকতার। তিনি বলেন, বইমেলা প্রাণের উৎসব। শুধু বই কেনা নয়, লেখকদের সঙ্গে দেখা হয়, আড্ডা হয়। সামনাসামনি তাঁদের নানা বিষয়ে প্রশ্ন করা যায়।

মেলায় ঘুরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন ষাটোর্ধ্ব আব্দুল জলিল। তিনি পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। স্মৃতির পাতা হাতড়ে আব্দুল জলিল বলেন, ছাত্রজীবনে প্রতিদিন মেলায় আসতাম। বন্ধুরা দল বেঁধে সোহরাওয়ার্দীর পুকুরপাড়ে বসে বই পড়তাম। পরে প্রতিবছরই মেলায় এসেছি। বয়স হওয়ায় শরীরে এখন নানা রোগ বাসা বাঁধছে। সেই সঙ্গে করোনার কারণে দুই বছর ঘর থেকে বের হইনি। এবার মেলায় এসে খুব ভালো লাগছে।

অনন্য প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী মনিরুল হক বলেন, মনে হচ্ছে, শুরুতেই মেলা জমে উঠেছে। প্রথম ছুটির দিনে মেলা প্রাঙ্গণ মুখর ছিল।

প্রথমা প্রকাশনীর প্যাভিলিয়নে কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক বলেন, করোনার কারণে দুই বছর মেলার আয়োজন হলেও যেন রং ছিল না। এ বছর ভাষার মাসের প্রথম দিনেই মেলা শুরু হয়েছে। এবারের মেলা জমবে, তা শুরু থেকেই টের পাওয়া যাচ্ছে।

গতকাল মেলায় নতুন বই এসেছে ৯৬টি। বিকেলে বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় 'স্মরণ :আবুল মাল আবদুল মুহিত' শীর্ষক আলোচনা। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কুতুব আজাদ। আলোচনায় অংশ নেন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, জালাল ফিরোজ ও এম আবদুল আলীম। সভাপতিত্ব করেন নুহ-উল আলম লেনিন।

'লেখক বলছি' অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন আহমদ বশীর, সুজন বড়ুয়া, রাজীব সরকার ও হারিসুল হক। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি তারিক সুজাত, কুমার চক্রবর্তী ও সুপ্রিয়া কুণ্ডু। আবৃত্তি করেন রেজিনা ওয়ালী, ঝর্ণা সরকার ও আহসানউল্লাহ তমাল। এ ছাড়া ছিল সংগীত ও নৃত্য। আজ চতুর্থ দিনে সকাল ১১টায় শুরু হয়ে মেলা চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।