দিনাজপুর শহরের বাহাদুর বাজারে দাঁড়াতেই চোখ আটকে গেল কিছুটা দূরে এক সবজি বিক্রেতার ঝুড়িতে। তাঁর সামনে সাজানো হলুদ ও বেগুনি রঙের বিশালাকৃতির ফুল। দূর থেকে প্রশ্ন জাগল- আলু, শিম ও টমেটোর মাঝে এত বড় বড় কী ফুল? কাছে যেতেই ভাঙল ভুল। ফুল নয়, তিনি সাজিয়ে রেখেছেন হলুদ ও বেগুনি রঙের ফুলকপি। এর মাঝে শোভা বাড়িয়েছে সবুজ ফুলকপি।

সবজি বিক্রেতা ইয়াকুব আলী বলেন, চার-পাঁচ দিন ধরে আলমগীর নামে একজন রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপি বাজারে নিয়ে আসছেন। যাঁরা কিনছেন, তাঁরা পরে আরও খুঁজছেন। তবে জোগান কম থাকায় দাম বেশি। আবাদ বাড়লে দাম কমে আসবে। এই সবজির স্বাদ আছে বলে জানাচ্ছেন ক্রেতারা।

রুমানা শারমিন নামে এক ক্রেতা জানান, এমন ফুলকপি আগে দেখেননি। সাধারণ (সাদা) ফুলকপি ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও, রঙিনগুলোর কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা। দাম কম হলে সবাই খেতে পারবে। স্বাস্থ্যকর কিনা খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। এই সবজির পুষ্টিগুণ সম্পর্কে প্রচারণা চালানো দরকার।

বাজারে ঘুরে জানা গেল, এক জমিতে কয়েক রঙের ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করেছেন সদর উপজেলার শেখপুর ইউনিয়নের দিঘন জঙ্গলপাড়া এলাকার আলমগীর হোসেন। গত শনিবার বিকেলে ক্ষেতে গিয়ে তাঁকে পাওয়া গেল।

আলমগীর জানান, এবার প্রায় ৪৮ শতক জমিতে এসব সবজি চাষ করেছেন। এর মধ্যে হলুদ ফুলকপির চারা ২০০টি, বেগুনি ফুলকপির চারা ১৫০টি এবং বেগুনি বাঁধাকপির ২ হাজার ২০০টি চারা রোপণ করেছিলেন। এ ছাড়া চায়নিজ ক্যাবেজ নামে বাঁধাকপি, যা লেটুস পাতার মতো খাওয়ার উপযোগী; এর চারা রোপণ করেছেন ১ হাজার ৮০০টি।

এই কৃষকের দাবি, কোনো ধরনের বালাইনাশক ছাড়াই এসব কপি চাষ করছেন। তবে নিমপাতার রস, শ্যাম্পু ও হলুদ দিতে হয়। বাজারে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। চাহিদা থাকায় অনেক বিক্রেতা ফোন করে কপির অর্ডার দিয়ে রাখছেন।

আলমগীরের সবজি ক্ষেতের চারপাশে ঘুরছিলেন কৃষক পলাশ মিয়া। তিনি বলেন, তাঁর বাড়ি জঙ্গলপাড়া থেকে একটু দূরে। রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপি দেখতে এসেছেন। দেখতে ভালোই লাগছে। খেয়ে দেখতে হবে কেমন স্বাদ। বাজারে ভালো চাহিদা রয়েছে। বীজ পেলে তিনিও এই সবজি চাষের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

জঙ্গলপাড়া এলাকার আতাব উদ্দীন বলেন, রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপি আগে দেখেননি। আলমগীরের কাছে শুনেছেন, বাজারে নাকি দাম ভালো। আগামী মৌসুমে তিনিও এই সবজি চাষের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শুধু সদর উপজেলাতেই রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ হয়েছে।

সদর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, কৃষি সম্প্রসারণ ও নারী বহুমুখী শিক্ষা কেন্দ্রের উদ্যোগে সমন্বিত কৃষি পদ্ধতির মাধ্যমে বিভিন্ন রঙের ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ হচ্ছে। হলুদ ফুলকপি কেরোটিনা, বেগুনি ফুলকপি ভেলেনটিনা এবং বেগুনি বাঁধাকপি রুবি কিং জাতের। সদর উপজেলায় মাত্র দুই বিঘা জমিতে এই সবজি চাষ হয়েছে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, কৃষকদের চাষাবাদে আগ্রহী করতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষক, বিক্রেতা ও ভোক্তা এই সবজিতে আগ্রহী। আগামীতে রঙিন কপির চাষ বাড়বে। এর মাধ্যেমে বালাইনাশক ছাড়া ভোক্তার কাছে কৃষিপণ্য পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা সফল হবে।