৫০ হাজার টাকায় ১০ বছরে ১২ লাখ টাকা সুদ দিয়েছে এক কৃষক পরিবার। এর আগে সুদের কারবারি মহাজন ওই পরিবারের জমি থেকে আমন ধান কেটে নিয়েছেন। এতেও ক্ষান্ত হননি মহাজন। ওই কৃষকের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে পরিবারসহ হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে ভয়ে ভিটেমাটি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে পরিবারটি।

ওই কৃষক হলেন পটুয়াখালীর বাউফলের কালিশুরী ইউনিয়নের মানখাম গ্রামের জয়ন্ত বিশ্বাস (৩৫)। মঙ্গলবার পৌরশহরে সংবাদ সম্মেলনে মহাজনের নির্যাতনের অভিযোগ করেন তিনি ও তাঁর পরিবার।

জয়ন্ত বিশ্বাস জানান, ওই গ্রামের বাসিন্দা জালাল হাওলাদারের ছেলে কামাল হাওলাদারের (সুদি কামাল) কাছ থেকে ১০ বছর আগে ৫০ হাজার টাকা সুদে নিয়েছিলেন। তিন বছর আগে জমিজমা বিক্রি করে সুদ-আসলে প্রায় ১২ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। তিন বছর পর আবারও ৩ লাখ টাকা দাবি করেন কামাল। টাকা দিতে না পারায় বসতবাড়িতে হামলা করেন মহাজন ও তাঁর ভাই রফিক। তাঁদের অত্যাচার-নির্যাতন থেকে বাঁচতে মা, স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে চার মাস ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন জয়ন্ত। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। এক মাস আগে ৪০ কড়া জমির ধান কেটে নিয়ে গেছেন কামাল ও তাঁর পরিবারের লোকজন।

জয়ন্ত বিশ্বাসের মা কানন বিশ্বাস বলেন, যে জমি আছে, তা বিক্রি করে সুদের টাকা দিয়েছি। এখন আমরা বাড়িছাড়া। আমাদের কিছু নেই। যে ভিটা আছে, তাতেও থাকতে পারছি না। কামাল আরও টাকা চায়। দিতে না পারায় আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলেছে। অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। আমার ছেলেকে মারার হুমকি দেয়। তাই ঘরবাড়ি ছেড়ে প্রাণের ভয়ে মেয়ের বাড়িতে উঠেছি।

এদিকে অত্যাচার নির্যাতনের কথা সাংবাদিকদের জানানোর কারণে জয়ন্ত বিশ্বাসের বোনের ছেলে আশিসকে মোবাইল ফোনে হুমকিও দিয়েছেন সুদি কামাল। হুমকির ফোন রেকর্ডে কামালকে বলতে শোনা যায়, 'সাম্বাদিক আমার কী করবে। আমি কোনো সাম্বাদিক মানি না। আমি সাম্বাদিক মারি। সাম্বাদিক আমার কাছে পাঠিয়ে দিস।'

অভিযোগের বিষয়ে কামাল হাওলাদার মোবাইল ফোনে বলেন, 'জমি দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়েছে। সাক্ষী আছে। এহন আমারে জমির দলিল দিতে হবে। কেউ ওদের রক্ষা করতে পারবে না।'

এ বিষয়ে বাউফল থানার ওসি আল মামুন বলেন, ঘটনা খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।