সুনামগঞ্জের ছাতক শহরে সড়কজুড়েই গড়ে উঠেছে অলিখিত অটোরিকশা স্ট্যান্ড, যার ফলে নিয়মিত সড়কে চলাচলকারী পৌর বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘ দিন ধরে এ অবস্থা বিরাজ করলেও এর সমাধানে প্রশাসনিক কোনো উদ্যোগ নেই। যত্রতত্র সিএনজিচালিত অটোরিকশা পার্ক করা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষের উদাসীয় জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে জনভোগান্তি কমাতে ছাতক পৌর মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী অটোরিকশা স্ট্যান্ডটি পুরাতন কোর্ট রোড এলাকায় স্থানান্তর করেছিলেন। কিন্তু ছয় মাস না যেতেই অটোরিকশা চালকরা খেয়ালখুশিমতো অটোরিকশা সড়কের যেখানে সেখানে পার্ক করছেন।

শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু করে পুরাতন কোর্ট রোড পর্যন্ত সড়কের দু’পাশে প্রতিদিন অর্ধশতাধিক অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে। যে কারণে শহরের ব্যস্থতম ওই এলাকা দিয়ে এলোমেলোভাবে রাখা অসংখ্য অটোরিকশা ও নানা যানবাহনের কারণে বাজার ও উপজেলা পরিষদে প্রবেশ করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। একইভাবে শহরের আশপাশে স্থায়ী কোনো ট্রাকস্ট্যান্ড না থাকায় ছাতক বহুমুখী সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের মার্কেটের সামনে অলিখিত ট্রাকস্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। এতে মার্কেটে আসা-যাওয়ায় অসুবিধার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীরাও ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে।

এ ছাড়া প্রতিদিন শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে পুরাতন কাস্টমস রোডে ব্যাটারিচালিত রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন সড়কজুড়ে যেমন খুশি তেমনভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে। এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান বলেন, সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে এ ক্ষেত্রে নৈরাজ্য চলছে। এসব বিষয়ে একাধিকবার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আলোচনা করা হয়েছে।

পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ও আধুনিক পৌরসভা গড়তে সড়কের ১ নম্বর ব্রিজ থেকে ট্রাফিক পয়েন্ট পর্যন্ত ওয়ানওয়ে লাইনের কাজ শুরু হয়েছে। আগামীতে রাস্তার ওপর কোনো ধরনের যানবাহনের স্ট্যান্ড থাকবে না। সড়কের চলমান উন্নয়ন কাজগুলো শেষ হলে শহরবাসীর দুর্ভোগ কমবে।