চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায় ডাকাতের হামলায় একই পরিবারের তিনজন আহত হয়েছেন। রোববার ভোর পাঁচটার দিকে উপজেলার মগধরা ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডে মোস্তাফিজুরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- মোস্তাফিজুর রহমান, তার স্ত্রী মাইমুনা খানম ও তাদের বড় মেয়ে তাসফিয়া রহমান। তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মোস্তাফিজুর রহমান ব্যবসায়ী ও মাইমুনা সন্দ্বীপ পাবলিক স্কুলের শিক্ষক। আর তাসফিয়া স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার ভোরে ডাকাত দল ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমানের ঘরে ঢুকে তাণ্ডব চালায়। তারা একপর্যায়ে মোস্তাফিজুরকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। স্ত্রী এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে জখম করে। আর মেয়েকে রড দিয়ে মারাত্মকভাবে আঘাত করে। পরে ঘর থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র লুট করে। 

আহত মাইমুনা খানমের ভাই রেজাউল করিম বলেন, রোববার ভোরে পাঁচ থেকে ছয়জন ডাকাতের একটি দল মুখোশ পরে বাড়িতে ঢুকে। তারা প্রথমে ঘরে প্রবেশের কলাপসিবল গেটে লাগানো তালা ভাঙে। তালা ভাঙার আওয়াজ শুনে দুলাভাই ঘুম থেকে উঠে দরজার সামনে আসতেই ডাকাতরা তাকে ঘিরে ফেলে। পরে তারা দুলাভাইকে আলমারির চাবিসহ টাকা-পয়সা দিতে বলে। দিতে কিছুটা দেরি করায় তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুলাভাইকে আঘাত করে।

তিনি বলেন, দুলাভাইকে ডাকাতদের হাত থেকে রক্ষা করতে আমার বোন এগিয়ে এলে তাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। হাতে থাকা রড দিয়ে তাসপিয়ার মাথায়ও মারাত্মকভাবে আঘাত করে ডাকাত দলের সদস্যরা। তিনজনকে গুরুতর আঘাত করে পুরো ঘরে তাণ্ডব চালায়। ভোরের আলো ফোটার আগেই তারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে বোন-দুলাভাই ও আমার ভাগ্নি যন্ত্রণায় চিৎকার করতে থাকলে মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিরা তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। 

এদিকে, আধ ঘণ্টার ব্যবধানে একই এলাকায় আরেক বাড়িতেও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, মাত্র আধ ঘণ্টার ব্যবধানে একই এলাকার পাশাপাশি দুটি ঘরে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতদের হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। ডাকাতদের আটক করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। 

তিনি আর বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জেনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।