ঘূর্ণিঝড় মোকার প্রভাবে সুন্দরবনে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে দেড় ফুট পানি বেড়েছে। শুক্রবার দুপুরের জোয়ারে পানি বৃদ্ধি পায়। 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী ও প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির। 

এ দিকে মোংলা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. হারুনুর রশিদ জানান, মোংলা থেকে ঘূর্ণিঝড় মোকা ৯৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছে। বঙ্গোপসাগরে যেসব মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলার রয়েছে সেসব নৌযানের মাঝিদের নিরাপদে দ্রুত উপকূলে ফিরে আসার জন্য বলা হয়েছে।

৪ নম্বর হুশিয়ারি সতর্ক সংকেত জারির পর মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব এলার্ট নম্বর -‘২’ জারি করেছে জানিয়ে হারবার মাস্টার কমান্ডার শাহিন মজিদ বলেন, তারা জরুরি বৈঠক করবেন। তবে বন্দরে অবস্থানরত বাণিজ্যিক জাহাজে পণ্য ওঠা-নামার কাজ এখনই বন্ধ হচ্ছে না। সতর্ক সংকেত বাড়লে তখন বন্ধ করা হবে।

 করমজল বন্যপ্রাণী ও প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোকার প্রভাবে সুন্দরবনে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে দেড় ফুট পানি বেড়েছে। করমজলে বন্যপ্রাণীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় চলাকালীন ও পরবর্তী সময়ে যেকোন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে কোস্টগার্ড। পশ্চিম জোনের (মোংলা সদর দপ্তর) অপারেশন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার তারেক আহমেদ বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সতর্ক বার্তার প্রচার করা হচ্ছে। এছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলসমূহ, সুন্দরবন ও তৎসংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাবাসীকে সাইক্লোন শেল্টারে নেওয়ার পাশাপাশি কোস্ট গার্ড স্টেশনে আশ্রয় প্রদান করা হচ্ছে। 

পূর্ব প্রস্তুতি সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) দীপংকর দাশ বলেন, ১০৩টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি ইউনিয়নে ৮৪টি এবং পৌরসভায় ১৯টি। এছাড়া সিপিপির ৬৬টি ইউনিটের প্রায় ১ হাজার ৪০০ স্বেচ্ছাসেবকসহ পর্যাপ্ত খাবারও মজুদ করে রাখা হয়েছে।