ঢাকা বুধবার, ২২ মে ২০২৪

৪৭ ঘণ্টা পর সুস্থ অবস্থায় ব্যাংক ম্যানেজার উদ্ধার

৪৭ ঘণ্টা পর সুস্থ অবস্থায় ব্যাংক ম্যানেজার উদ্ধার

বান্দরবানে উদ্ধারের পর র‍্যাবের গাড়িতে ব্যাংক কর্মকর্তা নেজাম উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী সংগৃহীত

উজ্জ্বল তঞ্চঙ্গ্যা, বান্দরবান

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৪ | ০১:১১

রুমায় অপহৃত সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার নেজাম উদ্দিনকে ৪৭ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রুমা সদর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে একটি এলাকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। তাঁর গায়ে ছিল একটি গেঞ্জি ও গলায় গামছা ঝোলানো। র‍্যাব জানায়, তাদের মধ্যস্থতায় উদ্ধার করা হয়েছে নেজামকে।

নেজামের ভাই মিজানুর রহমান বলেন, ‘র‌্যাবের সহায়তায় আমার ভাইকে উদ্ধার করা হয়েছে। আমিও ঘটনাস্থলে ছিলাম। আমরা কোনো মুক্তিপণ দিইনি। উদ্ধারের বিষয়ে র‌্যাব বলতে পারবে। রুমা বাজারের পাশে তাঁকে পাওয়া গেছে। ভাই সুস্থ আছেন।’
নেজামের স্ত্রী মাইসুরা ইসফাত বলেন, একজন ফোন করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল। এরপর স্বামীর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাঁকে দিতে পারেনি। তখন মনে হয়েছে প্রতারণা।
র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সমকালকে বলেন, তাদের মধ্যস্থতায় নেজামকে উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নেজামকে বান্দরবান সদরে আনা হয়। সেখানে তাঁকে র‍্যাব-১৫-এর কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। নেজামের সঙ্গে দেখা করতে রাতে র‍্যাব কার্যালয়ে যান সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফজাল করিমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সেখান থেকে বের হয়ে আফজাল করিম সাংবাদিকদের বলেন, নেজাম শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্ত আছেন। অপহরণ-সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বেশ কিছু তথ্য জানিয়েছেন। আশা করি, শুক্রবার তিনি বাসায় ফিরতে পারবেন।

একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, বম সম্প্রদায়ের এক লোকের মাধ্যমে ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে অপহৃতকে উদ্ধার করা হয়। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি। আজ বান্দরবানে র‌্যাব সংবাদ সম্মেলনে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানাবে।

মঙ্গলবার রাতে রুমা উপজেলা সদর ও বুধবার থানচি উপজেলায় ১৬ ঘণ্টার ব্যবধানে দুর্ধর্ষ ডাকাতি ও ব্যাংক লুটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, আনসার, এপিবিএন ও গ্রাম পুলিশ অভিযান শুরু করে। রুমা উপজেলার বমপাড়াসহ সন্ত্রাসীদের গুরুত্বপূর্ণ আস্তানায় অভিযান চালানো হয়।

বিভিন্ন সূত্র জানায়, যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)। পাল্টা গুলি চালায় যৌথ বাহিনী। উভয়ের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। রুমা উপজেলা থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে মুননুয়ামপাড়া, আর্থ পাড়া, বাসলাংপাড়াতে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে কেএনএফের গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। যৌথ বাহিনীর অভিযানে টিকতে না পেরে পালিয়ে যায় কেএনএফ সদস্যরা। তবে এ ঘটনার সঙ্গে নেজামের উদ্ধারের যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত করেনি সংশ্লিষ্ট কেউ।

নেজামের পরিবারের পক্ষ থেকে টাকা লেনদেনের বিষয়ে কেউ মুখ খোলেননি। তবে এক ব্যাংক কর্মকর্তা টাকা লেনদেনের বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন। ম্যানেজার নেজামকে উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রুমা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা দিদারুল আলম। তিনি বলেছেন, নেজাম সুস্থ ও ভালো আছেন।

মঙ্গলবার রাতে নেজামকে ব্যাংকের ভেতর থেকে অপহরণ করা হয়। তবে রহস্যজনকভাবে ব্যাংক থেকে কোনো টাকা নেয়নি অপহরণকারীরা।

ওই দিনের ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, নেজামকে ব্যাংকের ভেতর থেকে বাইরে আনার পর পাঁচজন লোক অস্ত্র ঠেকিয়ে তাঁকে শারীরিক আঘাত করতে করতে উপজেলা প্রশাসন ভবনের দিকে নিয়ে যায়। ওই সময়ে তাঁর দুই হাত বাঁধা ছিল। পরে তাঁকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, অপহৃত ব্যাংক ম্যানেজারকে ঘটনাস্থল থেকে দুর্গম-গহিন এলাকায় নিয়ে যেতে পারেনি। ঘটনাস্থল থেকে ৩-৫ কিলোমিটার দূরে কোনো এক পাড়াতে লুকিয়ে রাখা হয়। রুমার আর্থাপাড়া, মুননুয়াম ও বাসলাংয়ের কোনো এক পাড়াতে ম্যানেজারকে বন্দি করে রাখা হয়। বন্দি অবস্থায় তাঁর ওপর কোনো নির্যাতন করেনি অপহরণকারীরা।

পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন জানান, যৌথ বাহিনীর বৃহস্পতিবারের অভিযানের কারণে ম্যানেজারকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। লেনদেনের কোনো কথা শুনিনি।

আরও পড়ুন

×