ঢাকা রবিবার, ১৯ মে ২০২৪

আমতলীতে বাড়ছে ডায়রিয়া রোগী, ৪৮ ঘণ্টায় ভর্তি ৬২ জন

আমতলীতে বাড়ছে ডায়রিয়া রোগী, ৪৮ ঘণ্টায় ভর্তি ৬২ জন

বেডে ঠাঁই না পাওয়ায় রোগীরা নিরুপায় হয়ে বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। ছবি: সমকাল

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৪ | ১৫:১৪

বরগুনার আমতলীতে প্রতিদিন বাড়ছে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত ৪৮ ঘণ্টায় ৬২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে স্যালাইন সংকট দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের বেডে ঠাঁই না পাওয়ায় রোগীরা নিরুপায় হয়ে বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে দুর্ভোগ বাড়ছে রোগীদের। রোগী বেড়ে যাওয়ায় চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক, নার্সরা।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর থেকে শুক্রবার সকাল ১১টা পর্যন্ত গত ৪৮ ঘণ্টায় ৬২ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ৬ বেডের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে স্থান না হওয়ায় রোগীরা বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে সরকারিভাবে এ সংখ্যা কম হলেও গ্রামের চিত্র ভয়াবহ। অনেকেই হাসপাতালে না এসে গ্রাম্য চিকিৎসকের চিকিৎসা নিচ্ছেন। গুলিশাখালী ইউপি সদস্য আব্দুল ওহাব আকন বলেন, প্রায় ঘরে ঘরেই এখন ডায়রিয়ায় আক্রান্তের রোগীর খবর পাওয়া যাচ্ছে।

আজ শুক্রবার সকালে হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, বেডের অভাবে অনেক রোগী হাসপাতালের বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ সময় গুলিশাখালী ইউনিয়নের খেকুয়ানি গ্রামের ষাটোর্ধ মজিদ হাওলাদার (৬৩) নামের এক রোগী বলেন, ‘ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে জায়গার অভাবে এখন বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি। এখানে ফ্যান নেই। গরমে খুব কষ্ট হচ্ছে।’

চাওড়া ইউনিয়নের পাতাকাটা গ্রামের আরেক রোগী রুকাইয়া (১৩) নামের এক কিশোরী বলেন, ‘বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিতে খুব কষ্ট হচ্ছে। এখান থেকে বাথরুমে যেতে কষ্ট হয়।’ 

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বৈঠাকাটা গ্রামের আশমান খাঁ (৯০) বলেন, ‘হাসপাতালে আইছি। হেও আবার রুম পাইনাই। ওষুধ নাই। বাইরে গোনে টাহা দিয়া স্যালাইন কেনতে অয়। মোরা গরীব মানু স্যালাইন কেনার টাহা পামু কোম্মে।’

আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের তারিকাটা গ্রামের আবু ছালেহ বলেন, ‘হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ডায়রিয়ার চিকিৎসা নিচ্ছি। এ পর্যন্ত ৩ লিটার স্যালাইন বাইরে থেকে কিনে চিকিৎসা নিয়েছি।’ 

আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের তারিকাটা গ্রামের দুলাল সর্দার বলেন, ‘মোর ৯ মাসের ছেলে ইয়াছিন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালে এনে ভর্তি করেছি। এ পর্যন্ত খাবার স্যালাইন ছাড়া আর কিছুই হাসপাতাল থেকে পাইনি।’

আমতলী হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার থেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের শরীরে পুশ করার জন্য স্যালাইন সংকট দেখা দিয়েছে। স্যালাইন সংকট দেখা দেওয়ায় রোগীদের এখন ওষুদের দোকান থেকে স্যালাইন কিনতে হচ্ছে।

আমতলী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মনিরুজ্জামান খান বলেন, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে শিশু এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেশী। গত ৪৮ ঘণ্টায় ৬২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনি বলেন, তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ পানিবাহিত রোগ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে বেশী। 

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কাওছার বলেন, শুকনো মৌসুমের কারণে তাপমাত্রা বেড়ে গেছে। বিশুদ্ধ পানির অভাবে এবং বৃষ্টি না হওয়ায় পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তিনি বলেন, চিকিৎসাসেবায় কোনো ঘাটতি নেই। হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা সবাই দিনরাত চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন

×