ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে কী মধু চট্টগ্রাম ওয়াসায়

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে কী মধু চট্টগ্রাম ওয়াসায়

ফাইল ছবি

আব্দুল্লাহ আল মামুন, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৪ | ২৩:০৯

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ অব্যাহত রেখেছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এবার অবসরে যাওয়া ব্যক্তিগত সহকারীকে (পিএ) চুক্তিতে নিয়োগ দিয়েছেন ওয়াসার এমডি এ কে এম ফজলুল্লাহ। এ ছাড়া দেড় বছর আগে অবসরে যাওয়া এক চিকিৎসকের চুক্তিতে নিয়োগের মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম ওয়াসা বোর্ডের সাধারণ সভায় এসব সিদ্ধান্ত পাস করিয়ে নিয়েছেন তিনি।

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া দুই সৌভাগ্যবান সংস্থাটির মেডিকেল অফিসার ডা. মোসলেহ উদ্দিন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএ দিদারুল আলম।
সরকারি চাকরির বিধিবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাষ্ট্রপতির অনুমোদন ছাড়া অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের চুক্তিতে নিয়োগের সুযোগ নেই। এটি আইনের পরিপন্থি। অভিযোগ রয়েছে, চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি অবসরে যাওয়া পছন্দের কর্মকর্তাকে অনৈতিক সুবিধা দিতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম ওয়াসা সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে অবসর-উত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যান দিদারুল আলম। গত ১৪ মার্চ অনুষ্ঠিত ওয়াসার বোর্ডসভায় তাঁকে চুক্তিতে নিয়োগের প্রস্তাব দেন এমডি ফজলুল্লাহ। তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী দিদারকে এক বছরের জন্য অথবা নতুন কর্মচারী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। দিদারুল আলমের মূল পদ সাঁটলিপিকার ও কম্পিউটার অপারেটর হলেও তিনি এমডির পিএ হিসেবে কাজ করেন।

চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা-২০২০ এর ৬২ ধারায় বলা হয়েছে, অবসর গ্রহণ এবং কোনো কর্মচারীর পুনরায় নিয়োগ সরকারি চাকরি আইনের বিধানাবলি দ্বারা পরিচালিত হবে। অবসর গ্রহণকারী সরকারি কর্মচারীকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিষয়ে সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ এর ৪৯ (১) ধারায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি জনস্বার্থে কোনো কর্মচারীকে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করতে পারবেন।

চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি ফজলুল্লাহ বলেন, ‘কার্যালয়ের কাজে সহযোগিতা করার জন্য আর কোনো কর্মচারী নেই। পিআরএলে থাকা অবস্থায় এক বছর তিনি এমনিতেই বেতন-ভাতা পাবেন। এ জন্য নতুন কর্মচারী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বাড়তি কোনো সুবিধা ছাড়া তাঁকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে ২০২২ সালের ৩০ জুন অবসর-উত্তর ছুটিতে যান চট্টগ্রাম ওয়াসার মেডিকেল অফিসার ডা. মোসলেহ উদ্দিন। একই বছরের ৬ জুলাই ওয়াসার বোর্ড সভায় তাঁকে ছয় মাস অথবা নতুন মেডিকেল অফিসার নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। এর পর ১ বছর ৯ মাস পার হলেও নতুন মেডিকেল অফিসার নিয়োগ দেয়নি চট্টগ্রাম ওয়াসা। দুই বছর আগে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দায় সেরেছে তারা। ওয়াসার বোর্ড সভায় ডা. মোসলেহ উদ্দিনের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোরও প্রস্তাব দিয়েছিলেন এমডি ফজলুল্লাহ।

চুক্তি অনুযায়ী তিনি বেতন পান ১ লাখ ৫০০ টাকা। অথচ অবসরে যাওয়ার আগে সর্বশেষ মাসে তিনি বেতন উত্তোলন করেছেন ৮৮ হাজার ৭৩৫ টাকা। অবসরে যাওয়ার আগে তাঁর বেতন থেকে আয়কর কেটে রাখা হলেও বর্তমানে তাও রাখা হয় না। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম ওয়াসার বোর্ড সদস্য ডা. শেখ মোহাম্মদ শফিউল আজম বলেন, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিলেও নানা সমস্যার কারণে নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করা যায়নি বলে ওয়াসার পক্ষ থেকে জানানো হয়। ওয়াসার সাড়ে পাঁচশ কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য চিকিৎসক শুধু একজন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখতে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে নতুন মেডিকেল অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তবে সংস্থাটির কয়েক কর্মকর্তা জানান, এখানে এমডির কথাই চূড়ান্ত। তিনি চান না বলে নতুন মেডিকেল অফিসার ও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বোর্ডের ওপর দায় চাপিয়ে তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেন।
সরকারি চাকরির বিধিবিধানের বিশেষজ্ঞ ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া সমকালকে বলেন, ‘এভাবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে পারলে তো প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা তাদের পছন্দ ও ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ নেবেন।’

আরও পড়ুন

×