ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

দুই উপজেলায় সেতু, সংস্কার নিয়ে ঠেলাঠেলি

দুই উপজেলায় সেতু, সংস্কার নিয়ে ঠেলাঠেলি

হাজীগঞ্জ ও কচুয়া উপজেলার মধ্যবর্তী বোয়ালজুড়ি খালের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ সেতু সমকাল

হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৪ | ০০:২০

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ ও কচুয়া দুই উপজেলার মধ্যবর্তী বোয়ালজুড়ি খালের ওপর রয়েছে একটি সেতু। বহু বছরের পুরোনো সেতুটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এই সেতু দিয়ে অনেকটা আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করছে দুই উপজেলার মানুষ। অথচ সেতুটির মালিকানা এবং সংস্কার নিয়ে ঠেলাঠেলি করছে দুই উপজেলার এলজিইডি বিভাগ। 
পথচারীদের দাবি, দ্রুত যেন রঘুনাথপুর বাজারের পুরোনো সেতুটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করে দেয় সরকার।

দুই উপজেলার মধ্যবর্তী স্থানে সেতুটি গড়ে উঠায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। যদিও রাস্তাসহ সেতুটির কোড পড়েছে কচুয়া উপজেলায়। তবে ব্যবহারে আগ্রহ বেশি হাজীগঞ্জ উপজেলার মানুষের। বিষয়টি নিয়ে দুই উপজেলার এলজিইডির বিভাগ একে অন্যের ওপর দায় চাপাচ্ছে। যে কারণে নতুন করে সেতু নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া যাচ্ছে না। বছরের পর বছর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে সেতুটি।
স্থানীয় মো. মাহবুব বলেন, হাজীগঞ্জ-মাছুয়াখালী দিয়ে বয়ে যাওয়া বোয়ালজুড়ি খালের ওপর গড়ে উঠেছে প্রায় ১৫টি সেতু। তার মধ্যে বেশি পুরোনো রঘুনাথপুর বাজারের সেতুটি। ১৯৮০ সালে সেতুটি নির্মাণের পর আর কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। হাজীগঞ্জের রঘুনাথপুর বাজারে একটা সময় মতলব, নারায়ণপুর, নারায়ণগঞ্জ থেকে মানুষ আসতেন ব্যবসা-বাণিজ্য করতে। যে কারণে পানিপথে নৌকা, জাহাজ চলাচলের লক্ষ্যে এত উঁচু সেতু নির্মাণ করা হয়। সড়ক পথের সুব্যবস্থা থাকায় এখন আর খালের পানিতে নৌকা-জাহাজ চলাচল করে না। তাই আঁকাবাঁকা উঁচু সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করছে সাধারণ যানবাহন। তবে পুরোনো সেতুটি যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

রঘুনাথপুর সেতুটি দিয়ে বিশেষ করে হাজীগঞ্জ উপজেলার তারাপাল্লা, রাজাপুর, খিলপাড়া, পিরোজপুর গ্রামের মানুষ এখনও চলাচল করে আসছে। এ ছাড়া কচুয়া উপজেলার রঘুনাথপুর উচ্চ বিদ্যালয়, কাদলা, দেবীপুর, বরিগাঁও, গুলবাহার, মুরাদপুর, তেঘুরিয়া, গ্রামের মানুষও চলাচল করেন এই সেতু দিয়ে।
তারাপাল্লা গ্রামের বাসিন্দা ইছহাক বেপারি ও মুকলেছুর রহমান জানান, দুই উপজেলার মানুষের চলাচলের পথ হচ্ছে এই রঘুনাথপুর সেতু। পুরোনো মডেলের সেতুটির মাঝপথে রড উঠে গর্ত হয়ে গেছে। সরকার সারাদেশে এত এত উন্নয়ন কাজ করছে, অথচ রঘুনাথপুর সেতুর কাজ হচ্ছে না। এই সেতু দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারে মানুষ। তা ছাড়া এই বোয়ালজুড়ি খালের খননও জরুরি হয়ে পড়েছে। পুরোনো সেতুটি ভেঙে একটি আধুনিক সেতু নির্মাণের দাবি তাদের।

হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী রেদোয়ানুর রহমানের ভাষ্য, হাজীগঞ্জ উপজেলার মানুষ সেতুটি বেশি ব্যবহার করছে। তবে রাস্তাসহ সেতুটির কোড পড়েছে কচুয়া উপজেলায়। এ নিয়ে তাদের প্রকৌশলীর সঙ্গে অনেক টানাপোড়েনের ঘটনা ঘটেছে। যে কারণে সেতুটি এভাবে পড়ে আছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য আলোচনা করা হবে।
কথা হয় কচুয়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) প্রকৌশলী আবদুল আলীম লিটনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এই নামে (রঘুনাথপুর সেতু) কোনো সেতুর কোড আমাদের কাছে নেই। এটা হাজীগঞ্জে পড়েছে। কাজেই সেতুটি সংস্কারের দায়িত্বও হাজীগঞ্জ এলজিইডি অফিসের।’

আরও পড়ুন

×