ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

উপজেলা নির্বাচন

হাবিব ও তাঁর স্ত্রীর সম্পদ বেড়েছে রকেট গতিতে

ফুলপুর

হাবিব ও তাঁর স্ত্রীর সম্পদ বেড়েছে রকেট গতিতে

হাবিবুর রহমান

 নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ 

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৪ | ০০:৩৬ | আপডেট: ০৫ মে ২০২৪ | ০৯:২৮

ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য মো. শরীফ আহমেদ। সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের প্রতিনিধি হিসেবে এলাকায় পরিচিত মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। ফুলপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিব সংসদ সদস্যের হয়ে এলাকার সব কাজ দেখভাল করেন। ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে অংশ নিয়ে বিজয়ী হাবিব এবার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন। গত ১০ বছরে তাঁর ও স্ত্রী লায়লা আক্তার সুমির সম্পদ বেড়েছে রকেট গতিতে। নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামা পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। ৮ মে এ উপজেলায় ভোট হবে। 

হাবিব ফুলপুর উপজেলার সঞ্চুর গ্রামের বাসিন্দা। ২০১৪ সালের নির্বাচনে হলফনামায় পেশা .হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ ক্যাম্পাসের পরিচালক। সেই সময় পেশা থেকে বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছিল ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে নগদ টাকা, ব্যাংকে জমা, গাড়ি কিছুই ছিল না। স্ত্রীর নামে ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ১০ তোলা স্বর্ণ ছিল। ১ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও ৫০ হাজার টাকার আসবাব ছিল। স্থাবর সম্পত্তি হিসেবে নিজের কোনো কৃষিজমি না থাকলেও স্ত্রীর নামে ৫০ শতক কৃষিজমি ছিল হেবামূলে। নিজের ৪ শতাংশ অকৃষি জমি সাড়ে ৪ লাখ টাকা, ময়মনসিংহ শহরে দোতলা বাড়ি ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকায় রাজধানীর উত্তরায় একটি ফ্ল্যাট দেখানো হয়। দায়-দেনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল কৃষি ব্যাংকের ফুলপুর শাখায় ১ লাখ টাকা ও অগ্রণী ব্যাংক শাখায় ৫০ হাজার টাকা।

ভাইস চেয়ারম্যান থেকে ২০১৯ সালে আওয়ামী লীগের প্রতীক নিয়ে উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেন। কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে নৌকা নিয়ে পরাজিত হন। সেই নির্বাচনে হলফনামা জমা দিলেও কমিশনের ওয়েবসাইটে তা পাওয়া যায়নি। এবারের হলফনামায় দেখা যায়, কৃষি খাতে বার্ষিক আয় ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা, স্ত্রী কৃষি খাতে আয় করেন ২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা, বাড়ি ও দোকান ভাড়া থেকে আয় ৪ লাখ ২৩ হাজার ও ব্যবসা থেকে আয় ১১ লাখ টাকা। ১০ বছরের ব্যবধানে তাঁর স্ত্রীও ব্যবসায়ী হয়েছেন। স্ত্রীর ব্যবসা থেকে আয় ৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা। 
অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে দেখানো হয়, নিজের নগদ ৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, স্ত্রীর নামে নগদ ১১ লাখ ৯৬ হাজার টাকা, ২০ লাখ টাকার একটি মাইক্রোবাসও আছে নিজের নামে। তবে ১০ বছর আগে নিজের কোনো স্বর্ণ না থাকলেও এবার আছে ১০ তোলা, আর স্ত্রীর ১০ তোলা স্বর্ণ থেকে বেড়ে হয়েছে ২৫ তোলা।

১০ বছর আগে কোনো কৃষিজমি না থাকলেও এবার নিজের নামে ৫ একর সাড়ে ৯৮ শতক জমি রয়েছে। যার মূল্য দেখানো হয় ৩০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ৩ দশমিক ৭৫ শতক অকৃষি জমি ১৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। স্ত্রীর নামে ময়মনসিংহ নগরীর কৃষ্টপুরে ৫ শতক জমির মূল্য দেখানো হয় ৬ লাখ টাকা, নগরীর কল্পা এলাকায় ৩ শতক জমি ৬ লাখ ৭৫ হাজার, আকুয়া (সানকিপাড়া) এলাকায় ২ দশমিক ৩৮ শতক জমি ৩৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা এবং ফুলপুরের সঞ্চুর মৌজায় ২৩৪ দশমিক ৭৫ শতক জমির মূল্য দেখানো হয় ১১ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। অথচ ১০ বছর আগে স্ত্রীর কোনো অকৃষি জমি ছিল না। 
এবার নিজের নামে ঢাকায় একটি ফ্ল্যাটের মূল্য দেখানো হয় ১৬ লাখ ৫০ হাজার, ১১৭০ বর্গফুট জায়গার দাম দেখানো হয় ২৭ লাখ ৩৭ হাজার এবং পাঁচতলা দালানের মূল্য ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। 

 

আরও পড়ুন

×