ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

সীমান্তের ভাঙা বাঁধ ১৭ বছরেও সংস্কার হয়নি

সীমান্তের ভাঙা বাঁধ ১৭  বছরেও সংস্কার হয়নি

মেরামত করা হয়নি ফেনীর পরশুরাম উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী বাঁধ সমকাল

ফেনী সংবাদদাতা

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৪ | ২৩:৩৫

ফেনীর পরশুরামের ধুবলার চাঁদ ভারত সীমান্তবর্তী স্লুইসগেটের পাশে ২০০৭ সালে কহুয়া নদীর শাখায় ভাঙন দেখা দেয়। এর পর ১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও তা সংস্কার করা হয়নি। ফলে প্রতি বছর এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করছে। এতে পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের ধুবলার চাঁদ, খোন্দকিয়া, বাউরখুমা ও দুই নম্বর ওয়ার্ডের বাউরপাথর গ্রামের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, নষ্ট হচ্ছে ফসল। চারটি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষের ক্ষতি কমাতে বাঁধটি দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের।

ভারতের ত্রিপুরার আমজাদনগর এলাকার বাসিন্দা মো. এয়াকুব আলীর ভাষ্য, সীমান্তবর্তী ধুবলার চাঁদ এলাকায় স্লুইসগেটের পাশে বাঁধ ভেঙে গেলে সংস্কারের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে দু’দেশের সরকারের উচ্চ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। বাঁধ ভাঙার স্থানটি সীমান্তে হওয়ায় দু’দেশের অনুমতির প্রয়োজন রয়েছে। উভয় সরকার বাঁধটি সংস্কার করলে এলাকার সবার উপকার হবে।
একই ধরনের কথা বলেন পরশুরাম পৌরসভার ধুবলার চাঁদ গ্রামের কৃষক মো. ইমাম হোসেন মজুমদার রিপন। তিনি বলেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এলাকার মানুষের আসবাবপত্র ও ফসল নষ্ট হচ্ছে। গ্রামের আরেক বাসিন্দা মো. আবদুল মোতালেব জানান, স্লুইসগেট এলাকায় ২৮০ ডেসিমেল জমি রয়েছে। বাঁধ ভাঙার পর থেকে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। 
৮০ ডেসিমেল জমিতে চাষাবাদ করেন পৌরসভার খন্দকিয়া গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ জয়নাল। তিনি বলেন, ধুবলার চাঁদ এলাকায় ভাঙন দিয়ে পানি ঢুকে ফসলের ক্ষতি হয়। আরেক কৃষক নজরুল ইসলাম মজুমদার মাসুম বাঁধটি সংস্কারে দু’দেশের সরকারের কাছে দাবি জানান।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলাকাটি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। পাহাড়ি ঢলের কারণে ধুবলার চাঁদ এলাকার বেড়িবাঁধটি ভেঙে যায়। দুই দেশের সীমানা নির্ধারণে ঝামেলা ও উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় এটি সংস্কার হচ্ছে না বলে জানান ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবদুল মান্নান লিটন।
ভাঙা বাঁধটির কারণে অন্তত ১৪০ হেক্টর জমি বন্যার পানিতে প্লাবিত হয় বলে জানান পৌরসভা ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেব রঞ্জন বণিক। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। আর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মজুমদার বলেন, পরশুরাম বিজিবি ক্যাম্পের পাশে ভারতের অংশে নদী ভেঙে যাওয়ায় স্থানটি দিয়ে বাংলাদেশে পানি প্রবেশ করায় ক্ষতি হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, ধুবলার চাঁদের নদীভাঙন এলাকার এক পাশ বাংলাদেশে এবং অপর পাশ ভারতে। ভারতের অংশে ভেঙে এ দেশে পানি প্রবেশ করে। ভাঙনের স্থানটি সংস্কার করে হাজার হাজার মানুষকে রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার কথা জানান ফেনী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রাশেদ শাহারিয়ার।
এ বিষয়ে ফেনী-৪ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল শেখ মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা বলেন, পরশুরাম বিজিবি ক্যাম্পের পাশে ভারতীয় অংশে নদী ভাঙার বিষয়টি কোনো দপ্তর থেকে জানায়নি। রেকর্ডেও তিনি দেখেননি। সীমান্ত সম্মেলনে এ বিষয়টি নিয়ে তারা আলোচনা করেননি। তবে খোঁজ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে।

আরও পড়ুন

×