ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

খুলনা সিটি করপোরেশন

সংস্কার শুরু বহু আগে, তবুও অর্ধসমাপ্ত ৭৩ সড়ক

সংস্কার শুরু বহু আগে, তবুও অর্ধসমাপ্ত ৭৩ সড়ক

অর্ধসমাপ্ত সড়কগুলোতে যাতায়াতে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ওই এলাকার মানুষ। ছবি: সমকাল

হাসান হিমালয়, খুলনা 

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৪ | ১১:০৪

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নগরীর শামসুর রহমান সড়ক সংস্কারের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয় ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ওই বছরের আগস্টেই কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে এখনও তা অসমাপ্ত। এর মধ্যে দুই দফায় সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি করেছে ওয়াসা। এতে সড়কটির অবস্থা আরও নাজুক হয়েছে। এখন ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে যাতায়াতে দুর্ভোগে নাকাল নগরবাসী। এর মধ্যে বৃষ্টিতে কাদাপানি এবং শুষ্ক মৌসুমে ধুলোবালির যন্ত্রণা তো রয়েছেই। 

নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকার ৮টি সড়ক সংস্কারের কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০২৩ সালের ১২ মার্চ। ৬ মাসের মধ্যে এসব কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে এখন পর্যন্ত একটি সড়কের কাজও শেষ হয়নি। অর্ধসমাপ্ত সড়কগুলোতে যাতায়াতে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ওই এলাকার মানুষ।  

একই অবস্থা নগরীর ৭৩টি সড়কের। ড্রেন নির্মাণের সময় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়ি এবং নিয়মিত মেরামত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এসব সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে একটি সড়কের কাজও নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি। অনেক সড়কের কাজ এখনও শুরু হয়নি। এ জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি এবং কেসিসির তদারকির অভাবকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা। 

কেসিসি জানায়, গুরুত্বপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা উন্নয়ন ও পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩৩টি সড়ক সংস্কারের দরপত্র আহ্বান করা হয়। ২০২৩ সালেইএসব কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে তা হয়নি। এর মধ্যে ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের নর্থখাল ব্যাংক রোডের কাজ এখনও শুরু হয়নি।   

চলতি বছর একই প্রকল্পের আওতায় আরও ৪০টি সড়ক সংস্কারের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব সড়কের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু কোনো সড়কের কাজেই গতি নেই। এগুলোর কোনোটিই নির্ধারিত সময়ে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এ ছাড়া আরেকটি প্রকল্পের আওতায় সম্প্রতি আরও ১৬টি সড়ক সংস্কারের দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সেগুলোর কাজেও গতি নেই।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সড়ক নির্মাণে ধীরগতি ও মানুষের দুর্ভোগের চিত্র দেখা গেছে। নগরীর মিয়াপাড়া প্রধান সড়কে ড্রেন নির্মাণের জন্য ২০২২ সালে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হয়। গত বছর সড়কে ম্যানহোল বসিয়েছে ওয়াসা। সড়কের মাঝে উঁচু ম্যানহোলের কারণে এটি দিয়ে যাতায়াতের উপায় নেই। অসুস্থ মানুষকে কোলে তুলে দীর্ঘপথ হেঁটে যানবাহনে উঠতে হচ্ছে সড়কটির বাসিন্দাদের। এটি সংস্কারের জন্য গত মাসের ২৫ মার্চ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দিয়েছে কেসিসি। এখনও কাজ শুরু হয়নি। 

নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকা, বিআইডিসি রোড, বয়রা কলেজ বাউন্ডারি সড়কসহ বেশির ভাগ সড়কেরই এখন একই দশা। নিরালা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা স্থপতি ইমরান সরদার সমকালকে বলেন, গত বছর ড্রেন নির্মাণের সময় সড়ক খোঁড়া শুরু হলো। এরপর ওয়াসা খুঁড়ল। এরপর সংস্কারের জন্য আবারও খোঁড়া হলো। এভাবে দেড় বছর চলছে। খোঁড়ার পরে অনেক সড়কের কাজ এখনও শুরু হয়নি। ভাঙাচোরা সড়কের কারণে গত দেড় বছর ধরে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এ এলাকার প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দা। 

নগরীর শামসুর রহমান সড়কের একটি শিক্ষাসহায়ক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আজিজুর রহমান বলেন, গত ৩ বছর ধরে সড়কটি এলাকার মানুষকে ভোগাচ্ছে। খোঁড়াখুঁড়ির কারণে বৃষ্টিতে সড়কে কাঁদা জমে যায়, শুষ্ক মৌসুমে ধুলোয় সব অন্ধকার হয়ে যায়। খানাখন্দের কারণে অসংখ্যবার সড়কে রিকশা উল্টে গেছে, অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, সড়ক সংস্কার কাজে ধীরগতি নজরজুড়ে মানুষের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে। দ্রুত সড়কের কাজ শেষ করতে কেসিসির আরও উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন। 

কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান বলেন, ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়ির কারণে অনেক সড়কের কাজ মাঝপথে বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবে এখন সড়কের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। বর্ষার আগেই বেশির ভাগ সড়কের কাজ শেষ হবে। 

 

আরও পড়ুন

×