ঢাকা বুধবার, ২২ মে ২০২৪

ডোমারের বিজয়ী চেয়ারম্যান ফারহানা

পথে পথে ছিল বাধা-ভয় পরিবারের উৎসাহে জয়

পথে পথে ছিল বাধা-ভয় পরিবারের উৎসাহে জয়

ফারহানা আখতার সুমি

 আমিরুল হক, নীলফামারী

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৪ | ১১:৫৫

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় রাজনীতিতে যুক্ত হন সরকার ফারহানা আখতার সুমি। স্বপ্ন ছিল জনপ্রতিনিধি হয়ে সাধারণ মানুষের সেবা করবেন। কিন্তু হঠাৎ বিয়ের পিঁড়িতে বসার পর পড়াশোনা থেমে যায়, সেই সঙ্গে থমকে যায় জনপ্রতিনিধি হওয়ার স্বপ্নযাত্রা। এরপরও দমে যাননি ফারহানা।

স্বামী ও পরিবারের উৎসাহে তিনি পড়াশোনা শেষ করেন। চাকরির পেছনে না ছুটে আবারও যুক্ত হন রাজনীতিতে। পথে পথে আসা বাধা পেরিয়ে গত বুধবার প্রথম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নীলফামারীর ডোমারের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

জেলার ছয়টি উপজেলা পরিষদে ফারহানা একমাত্র নারী চেয়ারম্যান। তিনি সাত প্রার্থীকে হারিয়েছেন। টেলিফোন প্রতীকে পেয়েছেন ৩১ হাজার ৪২১ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ আনারস প্রতীকে পান ২৩ হাজার ১৩৪ ভোট। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ফারহানা শুভেচ্ছায় ভাসছেন।

ফারহানা আখতার বর্তমানে কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। তিনি ডোমারের ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের চিলাহাটি বাজারের বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম রব্বানী ও রাহেনা বেগম দম্পতির মেয়ে। তাঁর স্বামী একই এলাকার মারুফুল হক লালন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশলী।

ফারহানার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগে পড়ার সময় তিনি ছাত্রলীগের সহসভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপসাহিত্য সম্পাদক, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডসহ বিভিন্ন সংগঠনে যুক্ত ছিলেন। নিজের ইচ্ছার সঙ্গে স্বামীর উৎসাহে জনপ্রতিনিধি হওয়ার পথে পা বাড়ান। পড়াশোনা শেষে  রাজনীতিতে যুক্ত হন পুরোদমে।

ফারহানা বলেন, আমার এ পর্যন্ত আসার পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। পথে পথে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। নির্বাচন থেকে সরে যেতে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হয়েছিল। এসব চাপ মেনে নিয়ে নির্বাচন করায় দু’বার আমার ওপর হামলা হয়েছে। মারধর করা হয়েছে কর্মী-সমর্থকদের।  

স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ডোমারকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ ছাড়া দ্রুত চিলাহাটি স্থলবন্দর চালু, অর্থনৈতিক অঞ্চল, বর্ডার হাট ও নারীদের আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। স্ত্রীর বিজয়ে আপ্লুত লালন বলেন, ফারহানার প্রবল ইচ্ছাশক্তির জন্য সে মানুষের হৃদয় জয় করেছে।  

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী-১ (ডোমার, ডিমলা) আসনের প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন ফারহানা। পরে মনোনয়ন না পেয়ে দলীয় প্রার্থী বর্তমান এমপি আফতাব উদ্দিন সরকারের পক্ষে কাজ করেন। ফারহানার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম রব্বানী বলেন, সে এবার সংসদ সদস্য হতে চেয়েছিল। মনোনয়ন না পাওয়ায় এলাকার জনগণই তাঁকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী করে। তাই এ জয় ফারহানার একার না, এলাকাবাসীরও।

আরও পড়ুন

×