ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

বানেশ্বর-ঈশ্বরদী আঞ্চলিক মহাসড়ক

কথা রাখেনি সওজ-বন বিভাগ

কথা রাখেনি সওজ-বন বিভাগ

চারঘাটের রাউথা এলাকায় বন বিভাগের ১ হাজার ৬৪৭টি গাছ ছিল। সড়ক প্রশস্তকরণের সময় কেটে ফেলা হয়। সেখানে আর গাছ রোপণ করা হয়নি। ছবি: সমকাল

সনি আজাদ, চারঘাট (রাজশাহী)

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৪ | ১২:২৩

রাজশাহী জেলার বানেশ্বর-ঈশ্বরদী আঞ্চলিক মহাসড়ক সম্প্রসারণের সময় গাছ কাটতে গেলে বাধা দেন পরিবেশ আন্দোলনের নেতারা। সে সময় সমসংখ্যক গাছ লাগানোর প্রতিশ্রুতি দেয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এবং বন বিভাগ। কিন্তু কাজ শেষে এক বছর পেরিয়ে গেলেও একটি গাছও লাগানো হয়নি। বিষয়টি নিয়ে দুই দপ্তরের সঙ্গে কথা হলে তারা একে অপরকে দোষারোপ করে।

গত পাঁচ বছরে জেলার সড়ক ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে বড় কর্মযজ্ঞ ছিল পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর থেকে পাবনার ঈশ্বরদী পর্যন্ত ৫৪ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ। ৫৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৮ ফুটের সড়ক ৩৪ ফুট প্রশস্ত করা হয়। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হয়। ২০২০-২১ অর্থবছরে সড়কের দু’পাশের পাঁচ হাজারের বেশি গাছ কাটতে দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরিবেশবাদীরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে কাজ শেষে সড়কের দু’পাশে বনায়নের প্রতিশ্রুতি দেয় সওজ ও বন বিভাগ।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) চারঘাট উপজেলা সভাপতি সাইফুল ইসলাম বাদশা বলেন, গাছগুলো যখন কাটা হচ্ছিল তখন আমরা দিনের পর দিন আন্দোলন করেছি। সওজ ও বন বিভাগ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কাজ শেষে দ্রুত সড়কের দু’পাশে গাছ লাগানো হবে। কিন্তু তারা কথা রাখেনি। 

৫৪ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়কের চারঘাট ও বাঘা উপজেলার ৩১ কিলোমিটার সড়কের দু’পাশে ৫ হাজার ৩০৪টি গাছ ছিল। এর মধ্যে কোনো গাছের বয়স ছিল ১০০ বছরের বেশি কোনোটির বয়স ১০ বছরেরও কম। সড়ক প্রশস্তকরণের লক্ষ্যে চারঘাট থেকে বানেশ্বর অংশে জেলা পরিষদের ৪৩টি শতবর্ষী গাছ এবং সওজের আওতায় থাকা ৯২০টি গাছ কাটা হয়। একই সময় চারঘাটের ব্র্যাক অফিস থেকে নুরুর বটতলা পর্যন্ত তিন কিলোমিটার সড়কজুড়ে থাকা সামাজিক বনায়নের ১ হাজার ৬৪৭টি গাছ ৩৩ লাখ টাকায় এবং বাঘা উপজেলার মীরগঞ্জ থেকে চণ্ডীপুর পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটারে ২ হাজার ৬৯৪টি গাছ ৪৩ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়। মহাসড়কের দু’পাশে গাছ কাটার ফলে মরুভূমির মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে। তীব্র তাপদাহে হাঁসফাঁস অবস্থা পথচারীদের।

চারঘাটের রাওথা কলেজের শিক্ষার্থী শিমুল রানা বলেন, আগে সড়কের দু’পাশে সারি সারি গাছ ছিল। হেঁটেই ছায়াপথে বাড়ি ফিরতাম। গাছ কাটার ফলে উষ্ণ থেকে উষ্ণতর হচ্ছে সড়কসহ আশপাশের এলাকা। চলাচলে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। 

বাঘার মনিগ্রাম এলাকার ভ্যানচালক রমজান আলী বলেন, সড়কের দু’পাশে কোনো গাছ নেই। ছায়া না থাকায় বেলা গড়ালে ভ্যান চালানো যায় না। রোদের তাপে চাকা নষ্ট হয়ে যায়। জীবন-জীবিকা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

বন অধিদপ্তর চারঘাট সার্কেলের বন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানের অভিযোগ, সড়ক সম্প্রসারণ করতে শতবর্ষী গাছের পাশাপাশি অপরিপক্ব গাছও কাটা হয়েছে। কথা ছিল কাজ শেষে গাছ লাগানো হবে। কাজ শেষ হয়েছে এক বছরের বেশি সময়। সওজ গাছ লাগায়নি। আমরা দু’দফা উদ্যোগ নিই। দু’বারই কিছু গাছ লাগানোর ব্যাপারে সওজ থেকে ফোন করে নিষেধ করা হয়। বারবার নিষেধ করায় আর লিখিত আবেদন করা হয়নি।

রাজশাহী সওজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রেজওয়ানা করিম বলেন, সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পে গাছ লাগানোর বিষয়টি ছিল না। বন বিভাগও আবেদন করেনি। গাছ লাগানোর জন্য আমাদের ‘আরবরি কালচার’ নামে একটি ইউনিট আছে। তারাই গাছ লাগাবে। সে প্রক্রিয়াও চলছে। এর পরও বন বিভাগ গাছ লাগানোর বিষয়ে লিখিত আবেদন করলে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×