ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

উল্লাপাড়ার রামকান্তপুর

ছয় মাস নৌকায় চলাচল অন্য সময় ভরসা সাঁকো

ছয় মাস নৌকায় চলাচল অন্য সময় ভরসা সাঁকো

উল্লাপাড়ার ফুলজোড় নদীর রামকান্তপুর খেয়াঘাট এলাকার এ সাঁকোটি দিয়ে শুষ্ক মৌসুমে পারাপার হয় ২০ গ্রামের মানুষ। তবে বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি বেড়ে গেলে নৌকা তাদের যাতায়াতের মূল মাধ্যম হয়ে ওঠে। ছবিটি সম্প্রতি তোলা। ছবি: সমকাল

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৪ | ১২:৫৩

প্রতিদিন নদী পার হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসতে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পার হতে হয় নৌকায়। খেয়াঘাটের কোনো পাশে যাত্রীছাউনি নেই। ফলে নৌকার জন্য বৃষ্টিতে ভিজে তাদের অপেক্ষা করতে হয়। কথাগুলো উল্লাপাড়ার কয়েকজন স্কুলশিক্ষার্থীর। উপজেলার রামকান্তপুরে ফুলজোর নদীর ওপর সেতু না থাকায় এভাবে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের।

উপজেলার সানফ্লাওয়ার স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী রবিউল ও ফরিদুল, দশম শ্রেণির সুমাইয়া, রিপা, এইটি ইমাম গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মীম ও ঋতু এবং আকবর আলী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আব্দুল আলিম ও সাকিব হোসেনের সঙ্গে আলাপকালে তারা এমন ভোগান্তির কথা জানায়। রামকান্তপুর খেয়াঘাট এলাকায় একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছে তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রামকান্তপুর খেয়াঘাট এলাকায় ফুলজোর নদীর ওপর সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘ দিনের। কয়েক দশক ধরে তারা একটি সেতুর দাবি করে আসছেন। তবে সে দাবির বাস্তবায়ন না হওয়ায় এ নদীতে বছরের প্রথম ছয় মাস বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হতে হয়। বাকি ছয় মাস স্থানীয়দের পারাপার হতে হয় নৌকায়। এতে দু’পারের ২০টি গ্রামের হাজারো মানুষে প্রতিদিন চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ বলছে, এখানে সেতু নির্মাণের জন্য সমীক্ষা হয়েছে। তবে সেতুর অনুমোদন হয়নি।

এলাকার বাসিন্দাদের ভাষ্য, ফুলজোর নদীর পশ্চিমে উল্লাপাড়া পৌরসভা। আর পূর্ব পাশে পঞ্চক্রোশী ইউনিয়ন। প্রতিদিন রামকান্তপুর, বেতবাড়ি, চর কালীগঞ্জ, বন্যাকান্দি, মনিরপুর, দমদমা, বেতকান্দিসহ অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ এ নদী পার হয়ে উপজেলা সদর ও পৌরসভায় নানা কাজে আসেন। এ ছাড়া গ্রামগুলোর হাজারো শিক্ষার্থী সাঁকো অথবা নৌকায় পার হয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসা করে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরকারি আকবর আলী কলেজ, বিজ্ঞান কলেজ, এইচটি ইমাম গার্লস স্কুল ও কলেজ, মার্চেন্টস পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সানফ্লাওয়ার স্কুল, আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কামিল মাদ্রাসা রয়েছে। 

বাঁশের সাঁকো ও ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয় শিক্ষার্থীদের। অনেক সময় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার কথাও জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দরা। উল্লাপাড়া বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ মো. আশরাফুল ইসলামসহ স্থানীয় বাসিন্দা শাহরিয়ার হোসেন ও বাবুর ভাষ্য, স্বাধীনতার পর থেকে এ অঞ্চলের মানুষ রামকান্তপুর খেয়াঘাটে সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে তাদের দাবি বাস্তবায়িত হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, খরার সময় সাঁকো পার হয়ে চলাচল করতে অসুস্থ ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অন্তঃসত্ত্বাদের চিকিৎসক দেখানোর জন্য উল্লাপাড়া শহরে আনতে ভোগান্তির শেষ থাকে না। এখানে একটি সেতু নির্মাণ করলে উপজেলার আন্তঃসড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে। পাশাপাশি ২০ গ্রামের মানুষ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) উল্লাপাড়া অফিসের দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রকৌশলী আবু সায়েদ বলেন, পূর্বাঞ্চলের মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এলজিইডির প্রধান কার্যালয় থেকে একটি দল এক সপ্তাহ কাজ করে ফুলজোর নদীর ওপর ২০০ মিটার সেতুর সমীক্ষা ও মাটি পরীক্ষার কাজ শেষ করেছে। এটি ‘পল্লী সড়কে সেতু নির্মাণ প্রকল্পের (ফেজ-২)’ অন্তর্ভুক্তির অপেক্ষায় আছে। অল্প সময়ের মধ্যে সেতুটি নির্মাণের অনুমোদন পাবে বলে আশা এ প্রকৌশলীর।

আরও পড়ুন

×