ঢাকা রবিবার, ১৯ মে ২০২৪

গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা: দুই মাসেও মামলা নেয়নি মোংলা থানা

গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা: দুই মাসেও মামলা নেয়নি মোংলা থানা

ফাইল ছবি

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৪ | ১৮:৩৩

ট্রলারচালক স্বামী বাড়ি ছিলেন না। এই সুযোগে বাড়িতে ঢুকে গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করে এলাকার প্রভাবশালী জলিল মাতুব্বর। ব্যর্থ হয়ে ওই নারীকে কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করে সে। ভুক্তভোগীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে পালিয়ে যায় জলিল। সেদিনই ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ নিয়ে বাগেরহাটের মোংলা থানায় যায় তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তবে তাদের সেখান থেকে বের করে দেন ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম আজিজুল ইসলাম। ঘটনাটি গত ৯ মার্চের। 

এর পর ৩১ মার্চ খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের লিখিত সুপারিশ নিয়ে গেলে অভিযোগ রাখে পুলিশ। প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেনি তারা। শনিবার মোংলার একটি বেসরকারি সংগঠনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী ওই নারীর খালা। 

তিনি বলেন, তাঁর ভাগনির দুই সন্তান। স্বামীর সঙ্গে থাকেন মোংলা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের একটি এলাকায়। ৯ মার্চ স্বামী বাড়িতে ছিলেন না। সেদিন তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করে জলিল মাতুব্বর। রাতেই ওই নারীকে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এ পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ঘটনাটি স্থানীয় লোকজনকে জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে জলিল। সে হামলা চালিয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারের আরও ছয়জনকে মারধর করে। পরে তার বিরুদ্ধে মোংলা থানায় ধর্ষণচেষ্টার মামলা করতে যান তাঁর খালা। ওসি কে এম আজিজুল ইসলাম তাঁকে তাড়িয়ে দেন। পরবর্তীকালে ৩১ মার্চ খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের সুপারিশ নিয়ে গেলে অভিযোগ নেওয়া হয়। 

এদিকে থানায় অভিযোগ দেওয়ার জের ধরে গত ৬ মে বিকেলে ভুক্তভোগীর খালা, তাঁর ছেলে-পুত্রবধূ ও ৬ বছর বয়সী নাতির ওপর হামলা করে জলিলের লোকজন। এ ঘটনায়ও এজাহার নিয়ে থানায় গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি।

মোংলা থানার ওসি কে এম আজিজুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর ভাষ্য, ধর্ষণচেষ্টার বিষয়টি জানা নেই। তবে মারামারির ঘটনায় এজাহারের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে আসতে বলেছিলেন। তারা আর আসেননি। ফলে মামলাটিও নথিভুক্ত হয়নি। 

তবে ৬ বছর বয়সী শিশুর মা দাবি করেন, ওসি আজিজুল ইসলাম মিথ্যা বলেছেন। তারা মামলা করতে এজাহারের সঙ্গে সব কাগজপত্র নিয়ে যান। এরপরও ওসি তাদের থানা থেকে তাড়িয়ে দেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোংলা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. মজনু গাজীর মোবাইল ফোন নম্বরে দফায় দফায় কল দিয়েও বন্ধ পাওয়া গেছে। 

বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আবুল হাসনাত খান বলেন, তারা বিষয়টির খোঁজখবর নিচ্ছেন। শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


 

আরও পড়ুন

×