ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

বৌদ্ধ বিহারের দখল নিয়ে দু'পক্ষের সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ১৩

বৌদ্ধ বিহারের দখল নিয়ে দু'পক্ষের সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ১৩

ছবি- সংগৃহীত

চট্টগ্রাম ব্যুরো 

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৪ | ২১:১৬

চট্টগ্রামের নন্দনকানন বৌদ্ধ বিহারের দখল নিয়ে আবারও দু'পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে বৌদ্ধ ভিক্ষুসহ উভয়পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছে। খবর পেয়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মন্দিরে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় পুলিশের ৪-৫ জন সদস্যও আহত হন। আহতদের নগরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শনিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বৌদ্ধ ভিক্ষু ও বৌদ্ধ সমিতির লোকজন মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বৌদ্ধ সমিতির লোকদের বিহার থেকে বের করে দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

আহতরা হলেন- ভিক্ষু করুনানন্দ থের, বৌদ্ধ সমিতির অপু বড়ুয়া, শিমুল বড়ুয়া, অজিত বড়ুয়া, আদর্শ বড়ুয়া, নিপুতি বড়ুয়া, স্বপন বড়ুয়া ও প্রাণ মৃগাংক বড়ুয়া।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বৌদ্ধ মন্দিরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বৌদ্ধ ভিক্ষু ও বৌদ্ধ সমিতির মধ্যে কয়েক মাস ধরে বিরোধ চলে আসছে। বৌদ্ধ সমিতির লোকজন আজ বিহারে প্রবেশ করে তাদের অফিস পুনঃদখল করে। খবর পেয়ে জিনুবোধি ভিক্ষুর নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে সমিতির লোকদের মারধর করে মন্দির থেকে বের করে দেওয়া হয়। ভিক্ষুদের হামলায় পুলিশের ৪-৫ জন সদস্যও আহত হয়। এ সময় ভিক্ষুরা পুলিশের সঙ্গে খারাপ ব্যবহারও করেন। তবে পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।

ভিক্ষুদের অভিযোগ, আজ সকাল ১১টার দিকে বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতির নেতারা এসে বিহারের আসন থেকে বৌদ্ধ মূর্তি সরিয়ে সেখানেই বসে যায় এবং বিহারে তালা ঝুলিয়ে দেয়। দুপুর আড়াইটার পর ভিক্ষু নেতারা সেখানে জড়ো হলে দু'পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

বিহারকে নিজেদের দেখলে নিতে সমিতির নেতারা এমন কাজ করেছে বলে অভিযোগ তাদের।

এদিকে সন্ধ্যার দিকে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের নেতৃত্বে বিহারের সামনে মানববন্ধন করা হয়। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা জানায়, ২ মাস আগে বিহারের কিছু সম্পত্তি নিয়ে বৌদ্ধ সমিতির নেতদের সঙ্গে তাদের বিরোধ হয়। এ নিয়ে ৮ মার্চ মারামারির পর বিহার থেকে বৌদ্ধ সমিতির নেতাদের বের করে দেওয়া হয়। আজ তারা বিহারের দখল নিতে এলে সংঘর্ষ শুরু হয়।

নন্দনকানন বিহারের উপাধাক্ষ্য জিনুবোধি ভিক্ষু বলেন, বৌদ্ধ বিহার কারো সম্পত্তি নয়। কোনো সংগঠন করার জায়গাও না। কিন্তু একটা সংগঠন ভিক্ষুদের ওপর হামলা করে বিহারের দখলে নিতে চায়। বৌদ্ধ সমিতির লোকজন নিজেদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের ওপর দোষ চাপাতে চাইছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে বৌদ্ধ সমিতির নেতা শিমুল বড়ুয়া বলেন, কয়েকজন ভিক্ষুর নেতৃত্বে কিছু কুচক্রী বিহারটি কুক্ষিগত করে রাখতে চাইছে। সমিতি স্বচ্ছতার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিহার পরিচালনা করে আসছিল। তারা আমাদের মারধর করে বিহার থেকে বের করে দেয়।

প্রসঙ্গত, গত ৯ মার্চ নগরের নন্দনকানন বৌদ্ধ বিহারের দখল নিয়ে দু'পক্ষের মধ্যে প্রথম সংঘাত হয়। এরপর থেকে বৌদ্ধ বিহারের দখল কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। 

আরও পড়ুন

×