ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

মর্গে মায়ের লাশ, আহত শিশুটি খুঁজছে স্বজন

মর্গে মায়ের লাশ, আহত শিশুটি খুঁজছে স্বজন

শিশুটির নাম জাহিদ হোসেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৪ | ২৩:০৯ | আপডেট: ১২ মে ২০২৪ | ০৭:০৫

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন এক নারী। এ ঘটনায় আহত হয় তার শিশু সন্তান। অজ্ঞতপরিচয় নারী ও শিশুর স্বজনদের শনাক্তে শনিবারের দুর্ঘটনা পর থেকে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে পরিচয় না পাওয়া ও স্বজনদের সন্ধান না মেলায় ওই নারীর মরদেহ পড়ে রয়েছে মর্গে।

এদিকে শিশুটির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। সবাই তাদের পরিচয় খুঁজে পেতে ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে পোষ্ট করছেন। শনিবার দুপুর ১২টা থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি এক বছর বয়সী শিশুটির ছবি ভাইরাল হয়।

বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক আড়াইটা থেকে তিনটার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকার স্কয়ার মাস্টার বাড়ি এলাকায় ওই শিশু ও তার মা সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন।

ভালুকা ভরাডোবা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক আড়াইটা থেকে তিনটার দিকে স্কয়ার মাস্টার বাড়ি এলাকায় ওই শিশু ও তার মা সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। তবে, কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে, তা জানা যায়নি। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ওই শিশু ও তার মাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ভালুকা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখান থেকে তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। শুনেছি, ওই শিশুর মা মারা গেছে। তবে, এখনও তার পরিচয় পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

দুর্ঘটনার দিন ভোররাতে হাসপাতালে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য তারিকুল ইসলাম আহত শিশু ও তার মাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ বিষয়ে পুলিশ সদস্য তারিকুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার ভোররাতে তাদের হাসপাতালে আনা হয়। তবে, সঙ্গে কেউ না থাকায় আমি তাদের হাসপাতালের ভর্তি করি। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ৩০ বছর বয়সী ওই নারী মারা যান। তবে, শিশুটি এখনও হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি আছে। ওই নারীর পরিচয় এখনও মেলেনি। মরদেহ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ওই নারীর মৃত্যুর পর পরিচয় জানতে আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে ঢাকার আগারগাঁও নির্বাচন অফিসে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনও তার পরিচয় পাওয়া যায়নি।

বাচ্চাটি মাথায় আঘাত পেয়েছে, তাকে সব ধরনের সেবা দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে চিকিৎসক ফারজানা আক্তার বলেন, বাচ্চাটিকে ওয়ার্ডের অন্য রোগীর স্বজনরা দেখা-শুনা করছেন। শিশুটি কান্না করছে, দ্রুত স্বজনদের পাওয়া গেলে বাচ্চাটির জন্য ভালো হয়। শিশুটিকে চিকিৎসার অন্য রোগীর স্বজনদের মাধ্যমে দুধ খাইয়ে শান্ত রাখার চেষ্টা করছে। 

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারি পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. মাইন উদ্দিন বলেন, ‘আমরা নিয়মিত শিশুর খোঁজ-খবর নিচ্ছি। আল্লাহর রহমতে শিশুটি সুস্থ আছে। ওয়ার্ডে কর্মরত কর্মীরা তার দেখভাল করছে।’

আরও পড়ুন

×