ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল

অল্প বৃষ্টিতেই ডুবে যায় রাস্তাঘাট, জনভোগান্তি

অল্প বৃষ্টিতেই ডুবে যায় রাস্তাঘাট, জনভোগান্তি

ছবি: সংগৃহীত

 নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৪ | ০৮:২৭

অল্প বৃষ্টি হলেই ডুবে যায় আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ রাস্তাঘাট। গতকাল শনিবার সকালের এক ঘণ্টার বর্ষণে বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন স্থান পানিতে তলিয়ে যায়। এতে পোশাক কারখানার শ্রমিকসহ পথচারীরা পড়েন চরম ভোগান্তিতে। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পানি নিষ্কাশন হয় না।

সড়কটির ইউনিক থেকে জামগড়া পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার পানির নিচে তলিয়ে গেলে দেখে মনে হয় যেন বর্ষার নদী; থইথই করছে পানি। চলাচলে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি খানাখন্দযুক্ত সড়কটিতে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। এ অবস্থায় সড়কটি সংস্কারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিন শনিবার সকালে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে দীর্ঘ যানজট। রিকশা নিয়ে শাখা সড়ক দিয়ে ইউনিক এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পুরো সড়কটি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও পানি সড়ক ছাপিয়ে ঢুকে পড়েছে রাস্তার পাশে থাকা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলেও এ অবস্থা থেকে উত্তরণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতা কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস মেলেনি। মাঝেমধ্যে সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ মেশিন দিয়ে পানি সেচের ব্যবস্থা করলেও পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি হলে সড়কটি আবারও তলিয়ে যায়। বৃষ্টি না হলেও সড়কটিতে সারা বছরই আশপাশের কারখানা ও বাসাবাড়ির ড্রেনের পানি জমে থাকে। এতে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েন পথচারীরা। অনেক সময় ময়লা পানিতে তাদের জামাকাপড়ও নষ্ট হয়।

অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া জানান, বৃষ্টিতে রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় গাড়ি চালাতে সমস্যা হয়। একবার যদি মোটরে পানি ঢুকে নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে ৮ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হয়। এ কারণে ঝুঁকি নিয়ে রিকশা চালান তিনি।  

পোশাক শ্রমিক বিউট আক্তার জানান, সারা বছরই বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়কটিতে পানি থাকে। সকালে বৃষ্টির কারণে সড়কের কোনো কোনো স্থানে হাঁটুপানির বেশি হওয়ায় দিনের মধ্যে চারবার পানিতে ভিজে যাতায়াত করতে হয়। বিভিন্ন সময় ময়লা পানির কারণে শরীরে চুলকানিসহ চর্মরোগ দেখা দেয়। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পোশাক কারখানার মালিক বলেন, সড়ক ভালো হওয়ার আশায় পাঁচ বছরে অন্তত ৩০ লাখ টাকার লোকসান হয়েছে। আর কতদিন কষ্ট সইতে হবে, জানি না। 

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক শাহাবুদ্দিন খান বলেন, লোকজন কাজ করছে। প্রয়োজনে পাম্প দিয়ে সড়কের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে।

আরও পড়ুন

×