ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

সংযোগ সড়কের অভাবে কাজে আসছে না সেতু

সংযোগ সড়কের অভাবে কাজে আসছে না সেতু

ফেনীর পরশুরাম উপজেলার মালিপাথর এলাকায় সংযোগ সড়ক ছাড়া নির্মিত সেতু

ফেনী সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৪ | ১০:০৬

ফেনীতে সোয়া এক বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে প্রায় ৬ কোটি টাকা খরচে নির্মিত একটি সেতু। দু’পাশে মাত্র ২১০ মিটার সংযোগ সড়কের অভাবে এমন পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। ফলে জেলার পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার ৬ গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে তিন-চার কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে ভোগান্তির শিকার হয়ে তারা বলছেন, সময়ের পাশাপাশি বিপুল অঙ্কের টাকার অপচয় হচ্ছে তাদের। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা। 

ফেনী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিআরডি) সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার মাঝখানে সিলোনিয়া নদীর ওপর সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় ৬ কোটি টাকায় ২০২২ সালের ডিসেম্বরে কাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দ্য নিউ ট্রেড লিংক। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, সংযোগ সড়ক না থাকায় ২০২৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত সেতুটি ব্যবহার করা যায়নি। ফলে ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের মনতলা, গাবতলা গ্রাম ও পরশুরামের চিথলিয়া ইউনিয়নের সালধর, মালিপাথর, দেড়পাড়া ও রাজেষপুর গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ভয়াবহ দুর্ভোগে আছে। তাদের সদরে যেতে তিন-চার কিলোমিটার ঘুরতে হয়। 

একসময় সিলোনিয়া নদীতে সেতু ছিল না। তখন অন্যভাবে চলাচল করত আশপাশের মানুষ। এসব তথ্য জানিয়ে মো. মফজল হক, মোহাম্মদ সুজন, আবুল কালাম ও জহিরুল ইসলাম বলেন, এখন সেতু হলেও গাড়ি চলাচল করে না। ফলে কোনো কাজেই আসছে না বলে মন্তব্য করেন মনতলা, গাবতলা, সালধর, দেড়পাড়া ও রাজেষপুরের এই বাসিন্দারা। 

মালিপাথর গ্রামের আবুল কাশেম বলেন, সেতু নির্মাণ দেখে তারা খুশি হয়েছিলেন। কিন্তু যেহেতু রাস্তা করা হয়নি, তাই ব্যবহার করতে পারছেন না। দ্রুত চলাচলের সুযোগ পেতে রাস্তা তৈরির দাবি জানান তিনি।

রাস্তার অভাবে আত্মীয়স্বজনের কাছে ছোট হতে হয় বলে মন্তব্য করেন ওই গ্রামের আংকুরের নেছা ও হাজেরা খাতুন নামে দুই নারী। তারা বলেন, 
কাউকে দাওয়াত দিলেও আসতে চায় না। গাড়ি যেখানে যায় না, সেখানে কীভাবে যাবেন– এমন প্রশ্ন ছুড়ে বিদ্রুপ করেন। 

একই রকম মন্তব্য করেন ফুলগাজীর সাংবাদিক মো. সাহাব উদ্দিন। তিনি এলাকাবাসীর সুবিধায় সংযোগ সড়ক দ্রুত নির্মাণের আহ্বান জানান।

ফেনী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহমুদ আল ফারুকের ভাষ্য, সেতু নির্মাণের সময় ঠিকাদারের কাজের আওতায় সংযোগ সড়ক ছিল না। পরে সড়ক নির্মাণে উদ্যোগ নিয়েছেন। দু’পাশে ২১০ মিটার সড়ক নির্মাণের বিষয়টি তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সম্প্রতি অনুমোদন দিয়েছেন। এ জন্য ২৮ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। শিগগিরই নির্মাণ শুরুর আশ্বাস দেন তিনি।

আরও পড়ুন

×