ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

কক্সবাজার

জেলা আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতার ‘করুণ হার’

জেলা আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতার ‘করুণ হার’

ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী ও মুজিবুর রহমান

 ইব্রাহিম খলিল মামুন, কক্সবাজার 

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৪ | ১৫:৩৯ | আপডেট: ১৫ মে ২০২৪ | ১৫:১১

গত ৮ মে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানের হারকে অনেকে ভোটার ‘শোচনীয়’ ও ‘লজ্জাজনক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। জেলা আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতার এই হার গোটা জেলা চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। অনেকে বলছেন, ‘এটা তাদের কর্মফল’।

ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী কুতুবদিয়া ও মুজিবুর রহমান কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে করুণভাবে হেরেছেন। মুজিবুর রহমান এর আগে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র ছিলেন। সর্বশেষ নির্বাচনে তিনি মেয়র পদেও হেরে যান। অন্যদিকে কুতুবদিয়ায় তিন প্রার্থীর মধ্যে তৃতীয় হয়েছেন ফরিদুল ইসলাম।

কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান (আনারস) পেয়েছেন ২৭ হাজার ৮৩৩ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান, মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আবছার মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৬০০ ভোট। তার চেয়ে ৮ হাজার ৭৬৭ ভোট কম পেয়ে পরাজিত হন মুজিবুর রহমান।

নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, কক্সবাজার পৌরসভা এবং সদর উপজেলার পাঁচ ইউনিয়ন ঝিলংজা, পিএমখালী, খুরুশকুল, চৌফলদন্ডী ও ভারুয়াখালীতে মোট ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৪৪ হাজার ৮০১ জন। নির্বাচনে ৬৪ হাজার ৪৩৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। 

অপরদিকে, কুতুবদিয়ার উপজেলা নির্বাচনের ভোটে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম (মোটরসাইকেল) মাত্র ৩ হাজার ৯৬৫ভোট পেয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হানিফ বিন কাশেম (ঘোড়া) পেয়েছেন ২৭ হাজার ২৪৯ ভোট। অপর প্রার্থী আসহাব উদ্দিন (আনারস) পেয়েছেন ৫ হাজার ৪৩৮ ভোট। এতে তিন প্রার্থীর মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে ঠাঁই পেয়েছেন ফরিদুল ইসলাম। এতে তিনি জামানতও হারাতে পারেন বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা। তবে ভোটের দু’দিন আগে থেকে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।  

নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, কুতুবদিয়ার ছয়টি ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ৯৭ হাজার ১৭০ জন। সেখানে ৩৬ হাজার ৬৫২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এখানে ভোট পড়েছে ৩৭ শতাংশ।   

দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী ও মুজিবুর রহমান কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন রয়েছে নয় উপজেলা ও চার পৌরসভা। এসব সাংগঠনিক উপজেলায় কমিটি গঠনসহ চারটি সংসদীয় আসনে প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন এই দু’জনের স্বাক্ষরে। সরকারদলীয় সংগঠনের জেলার প্রধান হিসেবে ক্ষমতাধর হিসেবেই পরিচিত তারা। এত ক্ষমতার পরও ‘লোভে পড়ে’ তাদের উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করা দলীয় লোকজন ভালো চোখে দেখেননি। পাশাপাশি তারা দু’জনই জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করেননি বলে প্রচার আছে। নির্বাচনে তার প্রতিশোধ নিয়েছেন নেতাকর্মীরা।

জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মাহবুবুর রহমান চৌধুরী সমকালকে বলেন, ‘পৌরসভার মেয়র থাকাকালীন ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম এবং অবৈধভাবে ক্ষমতার অপব্যহারের কারণে উপজেলা নির্বাচনে মুজিবুর রহমানকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছেন।’

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমি নির্বাচনে হারিনি, হেরেছি স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং দলের একটা গ্রুপের ষড়যন্ত্রের কাছে।’

আরও পড়ুন

×