ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

আওয়ামী লীগ সমর্থক ২ লাখ ভোট হাওয়া

আওয়ামী লীগ সমর্থক ২ লাখ ভোট হাওয়া

দলীয় লোগো

 আহমেদ কুতুব

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৪ | ১৫:৪১

চট্টগ্রামে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চার মাসের ব্যবধানে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত দুই লাখ ভোট হাওয়া হয়ে গেছে। মিরসরাই, সীতাকুণ্ড ও সন্দ্বীপে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬  আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থী ৩ লাখ ৭১ হাজার ভোট পেয়েছিলেন।

গত ৮ মে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থক আট প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র ১ লাখ ৭৫ হাজার ৫৩৬ ভোট। সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা ভোট দিতে কেন্দ্রে গেলেও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কেন্দ্রমুখী হননি বড় একটি অংশ। 

সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর অনুসারী ও সমর্থকরা ভোট দিতে কেন্দ্রে গেলেও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তারা কেন্দ্রমুখী হননি। তিন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের অনুসারী প্রার্থী বেশি থাকায় সাধারণ ভোটারদের বড় একটি অংশ ভোট দিতে আগ্রহ দেখাননি। 
গত ৩০ এপ্রিল মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একেএম জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া বলেন, ‘৭ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রার্থী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী, আমাদের প্রিয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সুযোগ্য সন্তান মাহবুব উর রহমান রুহেলকে জেতানোর জন্য আমরা অনেক অপকর্ম করেছি। আমরা আগামী ৮ তারিখ উপজেলা নির্বাচনে কোনো অপকর্ম ছাড়াই ভোটকেন্দ্র খোলা রাখব, আমাদের অনেক প্রার্থী রয়েছেন। আপনি ভোটকেন্দ্রে আসবেন, যাকে খুশি তাকে ভোট দেবেন। আমাদের কোনো আপত্তি নাই। এখন ভোটের প্রতি মানুষের অনীহা। বিএনপি ভোট দিতে আসে না, আওয়ামী লীগের অনেকেও ভোট দিতে আসে না।’

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী এ ব্যাপারে বলেন, ‘নির্বাচনে ভোটাররা আগ্রহ হারিয়েছেন। কারণ এমপিদের আশীর্বাদ থাকা প্রার্থীরা জিতে যাবেন– এটা সবাই মনে করে। শুধু ফল ঘোষণার অপেক্ষা মাত্র। মানুষের কাছে এখন ভোট মানে অনীহা, অবিশ্বাস, অনাস্থা আর আতঙ্ক। তাই দিন দিন ভোটের হার কমে যাচ্ছে।’ 

৭ জানুয়ারির নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১ মিরসরাই আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মাহবুব উর রহমান রুহেল ৮৯ হাজার ৬৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতদ্বিন্দ্বী আওয়ামী লীগ নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. গিয়াস উদ্দিন পেয়েছেনে ৫২ হাজার ৯৯৫ ভোট। উভয়ের মিলিত ভোট ১ লাখ ৪২ হাজার হলেও চার মাসের ব্যবধানে এখানে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পাঁচ আওয়ামী লীগ নেতা ৬১ হাজার ২২৯ ভোট পেয়েছেন; যা মোট ভোটের মাত্র ১৭ শতাংশ। যদিও জাতীয় নির্বাচনে ৩৯ দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট পড়েছিল। 

প্রসঙ্গত, মিরসরাই উপজেলায় ৩ লাখ ৭২ হাজার ২৫৭ জন ভোটার রয়েছেন।

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মাহফুজুর রহমান মিতা পেয়েছিলেন ৫৪ হাজার ৭৫৬ ভোট এবং আওয়ামী লীগ নেতা স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরী পান ২৮ হাজার ৭০ ভোট। সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৩৬ দশমিক ২১ শতাংশ। কিন্তু উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এসে মাত্র ১৮ দশমিক ৪৬ ভাগ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আনোয়ার হোসেন ৪১ হাজার ৩৮৮ ভোট ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাঈন উদ্দীন মিশন কাপ পিরিচ প্রতীকে ২ হাজার ৫৩১ ভোট পেয়েছেন। এখানে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৮২ হাজার ৮২৬ ভোট পড়লেও উপজেলা নির্বাচনে এসে পড়ে মাত্র ৪৩ হাজার ৯১৯ ভোট! 

সীতাকুণ্ডে নৌকার প্রার্থী এসএম আল মামুন ১ লাখ ৪২ হাজার ৭০৮ ভোট ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মো. ইমরান সাড়ে ৪ হাজার ভোট পান। উভয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭০৮ ভোট পেলেও চার মাস পর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এসে কমে যায় ৭৫ হাজার ৭২৭ ভোট! উপজেলার ৩ লাখ ২০ হাজার ১৯৩ ভোটারের মধ্যে উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা আরিফুল আলম চৌধুরী রাজু ৫৯ হাজার ৭৯৫ ভোট এবং আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন আহমেদ মঞ্জু ১১ হাজার ১৮৬ ভোট পান। উভয়ে মাত্র ৭০ হাজার ভোট পেয়েছেন। এ উপজেলায় চার মাসের ব্যবধানে জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় অর্ধেক আওয়ামী লীগ সমর্থক ভোটারই উপজেলা নির্বাচনে কেন্দ্রে যাননি।

আরও পড়ুন

×