ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি

শিবিরকর্মী ও মামলার আসামির জন্য আ’লীগের সুপারিশ

শিবিরকর্মী ও মামলার আসামির জন্য আ’লীগের সুপারিশ

লোগো

 আকরাম হোসেন রানা, কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম)

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৪ | ১৫:৪৬ | আপডেট: ১৫ মে ২০২৪ | ১৫:০৮

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটির শীর্ষ পদে কারা আসছেন এ নিয়ে চলছে নানা জল্পনা। সম্প্রতি দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের এক বৈঠকে ৭ জন ছাত্রনেতার নাম সুপারিশ করে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মীদের অভিযোগ জেলা আওয়ামী লীগের সুপারিশ করা সাতজনের ওই তালিকায় সাবেক শিবিরকর্মী এবং একাধিক মামলার আসামি রয়েছেন। এ নিয়ে চাপা ক্ষোভ ও অস্বস্তি ছাত্রনেতাদের মধ্যে। 

দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠনের তোড়জোড় চলছে সাতবছর পর। এই কমিটির ভার কাদের কাঁধে গিয়ে পড়বে তা নিয়ে চলছে হিসাব–নিকাশ। কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে অতি সহসা ঘোষণা করা হবে নতুন কমিটি। 

অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও গঠনতন্ত্র না মেনে বাঁশখালী উপজেলা ও পৌরসভাসহ চারটি ইউনিটে কমিটি ঘোষণার অভিযোগে গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় কমিটি। নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে গতবছরের  ১৪ অক্টোবর নতুন কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হতে আগ্রহীদের জীবন বৃত্তান্ত আহ্বান করা হয়। কেন্দ্রের আহবানে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে দক্ষিণ জেলার আট উপজেলা থেকে প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী জীবনবৃত্তান্ত জমা দেন। এরমধ্যে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতারা গোপন বৈঠকে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের নব কমিটিতে মূল পদে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য সাতজন ছাত্রনেতার নাম চূড়ান্ত করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দপ্তরে পাঠান।  সুপারিশ করা ওই ৭জন হলেন ; দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক (বোরহান-তাহের কমিটি) সহ-সভাপতি সাতকানিয়ার জয়নাল আবেদিন, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চন্দনাইশের চৌধুরী তানভির, সাবেক সহসভাপতি সাতকানিয়ার ইয়াছিন চৌধুরী জনি এবং একই উপজেলার ছাত্রলীগ নেতা ইরফান উদ্দীন, আনোয়ারা উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা রবিউল হায়দার, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাশঁখালীর মামুনুর রহমান চৌধুরী এবং কর্ণফুলী উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন সাজিদ। 

জেলা আওয়ামী লীগের করা গোপন তালিকা নিয়ে গুরুত্বর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ–জামাত-শিবিরের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং নারী ও শিশু নির্যাতন মামলাসহ একাধিক মামলায় নাম জড়ানো ছাত্রনেতাদের নাম কেন্দ্রে পাঠানো তালিকায় রয়েছে। ওই দুই ছাত্র নেতা পূর্বে কোনো কমিটির পদে না থাকার বিষয়টিও উঠে আসে। এ নিয়ে ত্যাগী ছাত্রনেতাদের মধ্যে হতাশা এবং চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

জেলা আওয়ামী লীগের সুপারিশ করা সাত নেতার মধ্যে যে দুইজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তারা হলেন আনোয়ারা উপজেলার রবিউল হায়দার এবং সাতকানিয়া উপজেলার ইরফান উদ্দীন।

সমকালের হাতে আসা ছাত্রশিবিরের একটি সমর্থক ফর্মে রবিউল হায়দারের নাম দেখা যায়। একইসাথে আয়ের রশিদ ও শিবিরের প্যাডে রবিউলের ব্যক্তিগত তথ্যও দেখা যায়। তবে ফর্মে থাকা তারিখ দেখে অনুমান করা হচ্ছে এসব কাগজ একযুগেরও বেশি পুরোনো। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রবিউল হায়দার বলেন, ‘এটি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ষড়যন্ত্র। ফর্মে দেওয়া তারিখের সময় আমি ওই মাদ্রাসায় ভর্তি হইনি।’ ছাত্রলীগের এই নেতা প্রশ্ন করেন, ‘আমাকে যারা শিবির বানাতে চায় তাদের হাতে কি করে এই বানোয়াট ফর্ম গেল? নিশ্চয় শিবিরের ভেতরের কেউই এই কাজ চালাচ্ছে।’ 

এদিকে, আরেক বিতর্কিত ছাত্রনেতা ইরফান উদ্দীনের বিরুদ্ধে রয়েছে নারী নির্যাতনসহ অন্তত তিনটি মামলা। পুলিশের ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সিডিএসএমে (পিসিপিআর)তাকে ‘বিবাহিত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য ছাত্রনেতাদের প্রশ্ন, একাধিক মামলার আসামি কী করে ছাত্রলীগের কমিটিতে আসবেন?’  অভিযোগের বিষয়ে ইরফানের কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

জেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ করার না শর্তে জানান, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি নিয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং দক্ষিণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা। এরপর দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বৈঠকও হয়েছে। 

দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান সমকালকে বলেন, ‘দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটির জন্য ইতোমধ্যে সাতজনের নাম পাঠানো হয়েছে। তালিকায় থাকা দুজনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠছে তা সত্য নয়। ’ সাতকানিয়ার ছাত্রনেতা ইরফানের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইরফান আওয়ামী লীগ পরিবারে সন্তান, তার বাবা এলাকার চেয়ারম্যান। ওই সূত্রে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ’ ইরফান একজন শিক্ষিত ছেলে বলেও দাবি করেন জেলা আওয়ামী লীগের এই শীর্ষ নেতা। অন্যদিকে আনোয়ারার ছাত্রলীগ নেতা রবিউলের বিরুদ্ধে উঠা শিবির সম্পৃক্ততার বিষয়টি কেন্দ্র দেখবে বলে জানান তিনি।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেত্রী কহিনুর আকতার রাখি বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত সাতজনের নাম আমাদের হাতে এসেছে। বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক বৈঠকও হয়েছে। সমন্বয় করে কমিটি গোছানো হয়েছে। খুব শিগগিরই নতুন কমিটির ঘোষণা আসবে।’

আরও পড়ুন

×