ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

পুকুর পাড়ি দিয়েছি, এবার সাগর পাড়ি দেব, বলল সেই রাব্বি

পুকুর পাড়ি দিয়েছি, এবার সাগর পাড়ি দেব, বলল সেই রাব্বি

রফিকুল ইসলাম রাব্বি। ছবি: সংগৃহীত

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৪ | ১৫:৫১

দুর্ঘটনায় দুই হাত হারানো চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের রফিকুল ইসলাম রাব্বির পা দিয়ে লিখে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। আজ রোববার মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার প্রকাশিত ফলে সে জিপিএ-৫ অর্জন করে। তার এই সাফল্যে খুশি বাবা-মা, শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ স্থানীয়রা।

এমন সাফল্যে অদম্য রাব্বি বলে, ‘পুকুর পাড়ি দিয়েছি, এবার সাগর পাড়ি দিয়ে শিক্ষক হব। উচ্চশিক্ষা অর্জন করে শিক্ষকতা পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করব।’ তিনি বলেন, ‘আমি যে শারীরিক প্রতিবন্ধী সেটা কখনও ভাবি না। আমার মনোবলই লড়াইয়ের আসল শক্ত। আর মানুষের দোয়া ও ভালবাসায় আমি ভালো রেজাল্ট করেছি। ভবিষ্যতে শিক্ষাজীবন শেষ করে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখি।’

জানা যায়, সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকার বজলুর রহমানের ছেলে রাব্বি সমাজের আর পাঁচজনের মতোই ছিল একজন সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষ। কিন্তু ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র অবস্থায় রাব্বি স্কুল থেকে ভাটিয়ারী বাজারের একটি ফুট ওভারব্রিজের ওপর দিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু ওই ব্রিজের ওপরে পড়ে থাকা একটি বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে যায় সে। দীর্ঘ চিকিৎসায় সুস্থ হলেও রাব্বি হারায় তার দুই হাত। দুর্ঘটনার পর সবাই ভেবেছিল রাব্বির আর পড়াশোনা হবে না। কিন্তু রাব্বি অদম্য। পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে পা দিয়ে লিখে উত্তীর্ণ হওয়ার পর এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এ প্লাস পেয়েছে রাব্বি। 

রাব্বির রেজাল্টের খবর শুনে স্থানীয়রা বলেন, শুধু মনোবল আর অদম্য ইচ্ছা শক্তিই তাকে এনে দিয়েছে সুস্থ ও স্বাভাবিক শিক্ষার্থীদের মতোই সাফল্য। 

এদিকে ছেলের রেজাল্টের খবর শুনে মা-বাবার চোখে যেন আনন্দ অশ্রু। ছেলে সাফল্যের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বাবা বজলুর রহমান বলেন, ‘আল্লাহর দরবারে লাখো শুকরিয়া। আমার ছেলের মনোবল ও কঠোর পরিশ্রমে এই ফল। অগণিত মানুষের দোয়া ও ভালবাসা আমার ছেলের সঙ্গে আছে।’ 

ভাটিয়ারী হাজি তোবারক আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কান্তি লাল আচার্য্য বলেন, ‘শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও রাব্বি অন্যান্য শিক্ষার্থীদের চেয়ে ভাল ফলাফল করায় আমরা মুগ্ধ। সে জীবনে অনেক বড় হোক এই প্রত্যাশাই করি। রাব্বির মনোবল দেখে কখনও মনে হতো না সে শারীরিক প্রতিবন্ধী। সে অত্যন্ত মেধাবী। তার মেধা, মনোবল ও মানুষের দোয়ায় আজ সে এ প্লাস পেয়েছে। তাই আমি বিত্তবানদের অনুরোধ করব, রাব্বির পড়ালেখার সহযোগিতায় যেন তারা এগিয়ে আসেন।’

আরও পড়ুন

×