ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

বাম হাতে লিখে জিপিএ-৫ পাওয়া হুজাইফা ম্যাজিস্ট্রেট হতে চায়

বাম হাতে লিখে জিপিএ-৫ পাওয়া হুজাইফা ম্যাজিস্ট্রেট হতে চায়

ছবি- সমকাল

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৪ | ১৮:০৩ | আপডেট: ১২ মে ২০২৪ | ১৮:০৪

হুজাইফার ডান হাত নেই। বাম হাতে লিখেই পড়াশোনা চালিয়ে আসছে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার এই কিশোর। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেই এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে সে। ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার অদম্য ইচ্ছা নিয়েই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায় হুজাইফা মোল্লা। 

জন্ম থেকেই শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হুজাইফা। তার ডান হাতের কুনুইয়ের নিচের অংশ নেই। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কিংবা দরিদ্রতা; কোনোটাই তাকে হার মানাতে পারেনি। শিক্ষাজীবনের প্রতিটি শ্রেণিতেই দিয়েছে মেধার পরিচয়। 

হুজাইফা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ভানুরকান্দা গ্রামের কৃষক মনজুর রহমান ও শাহানা দম্পতির ছেলে। গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন প্রত্যেক শ্রেণিতেই প্রথম হয়েছে সে। এরপর সোনামুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তির পর প্রথম হয়ে ষষ্ঠ থেকে সপ্তম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়। পরে অষ্টম শ্রেণিতে দ্বিতীয় হলেও নবম ও দশমে প্রথম স্থান অধিকার করে।

শারীরিক প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি হুজাইফার চলার পথে কখনও কখনও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দরিদ্রতা। তবে সে প্রমাণ করতে চায়, ইচ্ছা থাকলে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কিংবা দরিদ্রতা- কোনোটাই বাধা নয়।

হুজাইফা বলেন, জন্ম থেকেই আমার ডান হাত নেই। আমি বাম হাত দিয়ে সকল কাজকর্ম করি। নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে আমি পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি। বাম হতে লিখে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছি। আমার ইচ্ছা বড় হয়ে ম্যাজিস্ট্রেট হবো। আমি প্রমাণ করে দিতে চাই, ইচ্ছা আর চেষ্টা থাকলে কোনো প্রতিবন্ধকতাই কখনও বাধা হতে পারে না।

ছেলের ফল প্রকাশের পর কথা হয় হুজাইফার বাবা মনজুর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, ছোট থেকে হুজাইফা পড়ালেখায় মেধাবী। তার ডান হাত না থাকলেও সংসারের সকল কাজ করে পরিবারে সহযোগিতা করে আসছে। সে কখনও নিজেকে প্রতিবন্ধী কিংবা শারীরিকভাবে অক্ষম মনে করে না। তবে পরিবারে অভাব-অনটন থাকায় আমরা তাকে নিয়ে বেশ চিন্তিত। তবে তার লক্ষ্য পূরণে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি। তার ফলাফলে আমরা খুব খুশি হয়েছি।

সোনামুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান বলেন, হুজাইফা আমার বিদ্যালয়ের অন্যতম মেধাবী শিক্ষার্থী। সে হার মানতে রাজি নয়। সকল পরীক্ষায় বাম হাত দিয়ে লিখেই সে প্রথম স্থান অধীকার করেছে। বিদ্যালয় থেকে তাকে উপবৃত্তিসহ সকল সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। সে অনেক ভালো পর্যায়ে যাবে বলে মনে করি।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম বলেন, হুজাইফাকে সমাজসেবা দপ্তর থেকে আর্থিক ভাতা করে দেওয়া হয়েছে। বাম হাত দিয়ে লিখে জিপিএ-৫ পাওয়ায় অন্যান্য প্রতিবন্ধীরাও তাকে দেখে অনুপ্রাণিত হবে বলে মনে করি। আমরা সবসময় তার পাশে আছি।

আরও পড়ুন

×